সিএমএসএমই খাতে ঋণ আদায়ে ধস

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৫-২৫ ১৫:৩৩:৫২


বাংলাদেশের কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে ঋণ আদায়ে বড় ধরনের ধস নেমেছে। যদিও সামগ্রিক ব্যাংক খাতে বকেয়া ঋণের পরিমাণ বাড়ছে, তবুও সিএমএসএমই খাতে অর্থায়নের গতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে সিএমএসএমই খাতে ঋণ আদায় কমেছে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে সিএমএসএমই খাতে ঋণ আদায় হয়েছে ৩৫ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। আর আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতের ঋণ আদায়ের পরিমাণ ছিল ৫২ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ আদায় কমেছে ১৬ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বা ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ পতন ছোট উদ্যোক্তাদের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ কিংবা তারল্য সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে। একই সঙ্গে এটি খাতটিতে ঋণের গুণগত মান নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলছে।

তবে একই সময়ে সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বিতরণ হয়েছে ৪৮ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪৪ হাজার ২০২ কোটি টাকা। সে হিসাবে ঋণ বিতরণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ।

যদিও প্রান্তিকভিত্তিক হিসাবে ঋণ বিতরণের গতি কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের তুলনায় চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ঋণ বিতরণ কমেছে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর সতর্ক ঋণনীতি ও নতুন ঋণ বিতরণে সংযত অবস্থান এর পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্ষিক চিত্রেও সিএমএসএমই খাতে চাপ স্পষ্ট। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে মোট ঋণ বিতরণ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায়, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ কিছু প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে ঋণ বিতরণে সংকোচনের প্রবণতা রয়েছে।

অন্যদিকে, ঋণ আদায় ও বিতরণে চাপ থাকা সত্ত্বেও সিএমএসএমই খাতে মোট স্থিতি ঋণ বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। ওই সময় দেশের ব্যাংক খাতের মোট স্থিতি ঋণের ১৭ দশমিক ২ শতাংশ ছিল এ খাতের দখলে।

একই সময়ে দেশের ব্যাংক খাতে মোট স্থিতি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এতে বোঝা যায়, সামগ্রিক ব্যাংক ঋণপ্রবাহ সম্প্রসারিত হলেও সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণের ধারা এখনো অসম ও অস্থির।

সিএমএসএমই অর্থায়নের কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ খাতে ঋণ বিতরণে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রাধান্য বেশি। মোট ঋণের ৭৩ দশমিক ৮ শতাংশই বিতরণ করেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এতে একদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে বেসরকারি ব্যাংকের ওপর নির্ভরতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সীমিত ভূমিকার চিত্রও সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে তথ্যগুলো বলছে, সিএমএসএমই অর্থায়ন এখন এক ধরনের নাজুক ভারসাম্যের মধ্যে রয়েছে। একদিকে বকেয়া ঋণের পরিমাণ বাড়ছে, অন্যদিকে ঋণ আদায় দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং ঋণ বিতরণেও ধারাবাহিকতা নেই। ফলে ছোট ব্যবসার চাহিদাজনিত চাপ এবং ব্যাংকগুলোর সতর্ক ঋণনীতির দ্বৈত প্রভাব এই খাতের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিএইচ