লাগাম ছাড়া সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ারের দর,লেনদেন স্থগিত
আপডেট: ২০২৬-০৬-১৫ ২২:৫২:২১
লাগামহীনভাবে বাড়ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ারের দাম। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারের দর বেড়েছে ১৬১ শতাংশের বেশি। অথচ এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বা ব্যবসায়িক অগ্রগতির ঘোষণা নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ১৫ জুন কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। একই সঙ্গে শেয়ারটির অস্বাভাবিক আচরণের কারণ অনুসন্ধানে ডিএসইকে নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পাশাপাশি বিএসইসির সার্ভিল্যান্স বিভাগ শেয়ারটির লেনদেন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেনে কোনো সমন্বিত কারসাজি, অস্বাভাবিক বা নন-জেনুইন লেনদেন হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (ইউপিএসআই) ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং সংঘটিত হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট ব্রোকার, ডিলার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিরা মার্জিন রুলস এবং কমিশনের নির্দেশনা মেনেছেন কি না, তাও যাচাই করা হবে।
এ বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার সানবিডিকে বলেন, “সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ারের দর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী দরবৃদ্ধির পেছনে কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হবে। বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে।”
আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ১৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৩ পয়সা।
সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরেও কোম্পানিটির লোকসান ছিল ২ কোটির বেশি টাকা। এ কারণে শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি কোম্পানিটি। বর্তমানে এটি শেয়ারবাজারে ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত।
বাজার–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লোকসানি কোম্পানির শেয়ারের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কারসাজি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে এ ধরনের অস্বাভাবিক উল্লম্ফনের যৌক্তিক ব্যাখ্যা সাধারণত পাওয়া যায় না।
বাজার তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মে সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ারের দাম ছিল ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা, যা ৯ জুন বেড়ে দাঁড়ায় ৮৩ টাকা ৪০ পয়সায়। পরবর্তীতে সামান্য মূল্য সংশোধন হলেও সোমবার আবারও শেয়ারটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের অস্বাভাবিক আগ্রহ দেখা যায়। লেনদেন চলাকালে শেয়ারটির দাম আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছে। ফলে এক মাসের ব্যবধানে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ৫৪ টাকা বা ১৬১ দশমিক ১৯ শতাংশ।
এর আগে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে গত ৩ ও ৪ জুন কোম্পানিটিকে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠায় ডিএসই ও সিএসই। জবাবে সোনারগাঁও টেক্সটাইল জানায়, তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই, যা শেয়ারের মূল্য বা লেনদেনে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আর্থিক অবস্থা কিংবা পরিচালনায়ও এমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেনি, যা এই মূল্যবৃদ্ধিকে যৌক্তিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে।
১৯৯৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সোনারগাঁও টেক্সটাইল একটি স্বল্প মূলধনি কোম্পানি। এর পরিশোধিত মূলধন ২৬ কোটি টাকা এবং মোট শেয়ারসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ। এর মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। ফলে বাজারে লেনদেনযোগ্য শেয়ারের পরিমাণ তুলনামূলক কম। বাজার–সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সীমিত ফ্রি-ফ্লোটকে কাজে লাগিয়েই কারসাজিকারীরা অল্প পরিমাণ শেয়ার কিনে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














