শ্রীপুরে কিশোর গ্যাং সদস্যদের হামলায় নারীসহ আহত ২

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৬-০৬-১৯ ১৫:০৯:৩৪


দোকানের সামনে অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে ভাড়া দেওয়ায় বাগবিতন্ডায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের হামলায় এক নারী মাধুরী আক্তার (২৪) ও তার দেবর রিয়াদকে (১৮) মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি শান্ত করলেও হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।

এ ঘটনায় শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে আহত নারীর বাবা স্বপন (৫০) ৬ জনকে চিহ্নিত করে অজ্ঞাত তিনজনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। হামলাকারী ও তাদের এলাকায় সহযোগীরা মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত এবং স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানায় স্থানীয়রা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৮টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার হাসপাতাল সড়কের সাগর টেলিকমের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত মাধুরী আক্তার ময়মনসিংহের পাগলা থানা এলাকার বাঘরা গ্রামের স্বপনের মেয়ে এবং নারীর দেবর রিয়াদ একই থানা এলাকার পাইথল গ্রামের বাসিন্দা। তাদেরকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাজধানীর পিজি হাসপাতালের সাথে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলো শ্রীপুরের জিওসি (বটতলা) এলাকার স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার শহিদুল্লাহ (৪০), শ্রীপুর পৌরসভার উত্তরপাড়া (টেংরা রাস্তার মোড়) এলাকার বাচ্চুর ছেলে তুষার (৩০), তাদের সহযোগী বেকাসাহরা এলাকার মৃত তাইফুদ্দিনের ছেলে সাগর (৩৫) এবং ফয়সাল মিয়া (২০), পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রহমত উল্লাহর ছেলে আরশাদ (৩৫) এবং মৃত তাইজুদ্দিনের ছেলে আরিফ (২৯)। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে।

আহত মাধুরী আক্তারের বাবা স্বপন বলেন, তাদের নিকট আত্মীয় অসুস্থত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে দেখতে মেয়ে মাধুরী আক্তার তার দেবর রিয়াদকে সাথে নিয়ে কাওরাইদ বাজার থেকে অটোরিকশা যোগে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড (চৌরাস্তা) হাসপাতাল সড়কের সাগর টেলিকমের সামনে চালক রিকশা দাঁড় করায়। তারা রিকশা থেকে নেমে ভাড়া দিচ্ছিল। এসময় শহিদুল্লাহ কেন অটোরিকশা দোকানের সামনে দাঁড় করাইয়াছিস বলে জিজ্ঞাসা করে। মেয়ের সাথে থাকা তার দেবর রিয়াদ বলে রিকশা ভাড়া দিয়েই চলে যাব। এ কথা বলা মাত্রই শহিদুল্লাহ দোকান থেকে বের হয়ে লোহার পাইপ দিয়ে হঠাৎ মেয়েকে ও তার দেবরকে মারধর ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। পরে অপর অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি, প্লাষ্টিকের পাইপ ও কাঠের চেলি নিয়া তাদের দু’জন এবং ননদ রত্নাকে মারধর করে আহত করে। এক পর্যায়ে মাধুরী আক্তারকে মাটিতে ফেলে গলায় পারা দিয়া চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। লোহার পাইপের আঘাতে মাথা ফেটে রক্ত ঝড়তে থাকলে মৃত্যু হতে পারে ভেবে হামলাকারীরা ভয়ে পালিয়ে যায়। এসময় অভিযুক্ত ফয়সাল মিয়া মেয়ের গলা থেকে সোয়া লাখা টাকা মূল্যের ১টি স্বর্নের চেইন কানে থাকা ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের এক জোড়া স্বর্নের ঝুমকা ছিনিয়ে নেয়। তাদের চিৎকারে পথচারীসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত তাদের দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। পথচারী ও স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হামলাকারীরা ঘটনা ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। লিখিত অভিযোগের বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

এনজে