উজানের ঢল ও বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামে বন্যার শঙ্কা

জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২৬-০৬-২৪ ১০:০২:৩০


উজানের ঢল ও টানা কয়েক দিনের হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ৩২ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করায় তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন শুরু হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৩ জুন) কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বেড়ে ২৪ দশমিক ৬৬ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপৎসীমার এক দশমিক ৩৯ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২৪ দশমিক ৪৯ মিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ২১ দশমিক ৮২ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে ২৮ দশমিক ৯৯ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপৎসীমার মাত্র ৩২ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

অন্যদিকে, তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলা এবং পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি কিছুটা কমেছে। তবে জেলার সার্বিক নদী পরিস্থিতি এখনো ঊর্ধ্বমুখী।

নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলোতে পানি ঢুকছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ফসলহানির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চর জুয়ান সতরা এলাকার কৃষক আজিজুল হক বলেন, “পানি বাড়ার কারণে নিচু জমিগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে মরিচ ও পটলক্ষেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”

রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়াশাম এলাকার কৃষক ছাবেদ আলী বলেন, “বাদামক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগেভাগেই বাদাম তুলে নিয়েছি। কিন্তু পাটক্ষেতসহ অন্যান্য সবজিক্ষেতে ইতোমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে।”

স্থানীয়রা জানান, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা বাড়ছে। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে নদীভাঙন শুরু হওয়ায় ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি হারানোর আতঙ্কও দেখা দিয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।”

এনজে