ডেঙ্গুর ভয়াবহতা: চসিকের ৮ ওয়ার্ড ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৬-০৬-২৬ ১৫:১১:৩০


ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়িয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আটটি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘রেড জোন’হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সাম্প্রতিক এক জরিপে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ব্যবহৃত তিনটি সূচকেই নগরীকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পাওয়া যাওয়ায় দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, স্বাস্থ্য বিভাগের চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ কারিগরি দল গত ৮ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ১১ দিনব্যাপী নগরীর ১৮টি ওয়ার্ডে জরিপ পরিচালনা করে। জরিপ দলে ছিলেন- বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভাগীয় কীটতত্ত্ববিদ মো. মফিজুল হক শাহ (দলনেতা) ও এন্টোমোলজিক্যাল টেকনিশিয়ান মো. মাকসুদুর রহমান এবং চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিসের ভারপ্রাপ্ত জেলা কীটতত্ত্ববিদ মঈন উদ্দীন ও এন্টোমোলজিক্যাল টেকনিশিয়ান রিয়াজ উদ্দিন।

এ সময় ৩৭০টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। জরিপে দেখা যায়, ৩৭০টি বাড়ির মধ্যে ৯৯টিতে এবং পরীক্ষা করা ৩৪৫টি পানির পাত্রের মধ্যে ১১৪টিতে এডিস মশার লার্ভা রয়েছে। শনাক্ত হওয়া লার্ভার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির।

জরিপে হাউজ ইনডেক্স পাওয়া গেছে ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যেখানে স্বাভাবিক মাত্রা ৫ শতাংশের নিচে থাকার কথা। ব্রেটো ইনডেক্স ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ, যা গ্রহণযোগ্য সীমা ২০ শতাংশের চেয়ে বেশি। এছাড়া কন্টেইনার ইনডেক্স ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ পাওয়া গেছে, যেখানে ১০ শতাংশের বেশি হারকে উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে ধরা হয়।

তথ্য বিশ্লেষণ করে উত্তর কাট্টলী (ওয়ার্ড-১০), পাঁচলাইশ (ওয়ার্ড-৩), জালালাবাদ (ওয়ার্ড-২), পশ্চিম বাকলিয়া (ওয়ার্ড-১৭), দক্ষিণ বাকলিয়া (ওয়ার্ড-১৯), দক্ষিণ হালিশহর (ওয়ার্ড-৩৯), পাথরঘাটা (ওয়ার্ড-৩৪) এবং আন্দরকিল্লা (ওয়ার্ড-৩২) ওয়ার্ডকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে বাসাবাড়ির প্লাস্টিকের পাত্র, ড্রাম, পানির ট্যাংক, নির্মাণাধীন ভবনের লিফট হোল ও আন্ডারগ্রাউন্ডে সবচেয়ে বেশি লার্ভা পাওয়া গেছে। উদ্বেগজনকভাবে সিটি করপোরেশনের কিছু আবর্জনা পরিবহনকারী গাড়িতেও এডিসের লার্ভার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের সুপারিশও করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একসঙ্গে কাজ করবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মশার উৎসস্থল ধ্বংসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না দেওয়ার বিষয়ে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। কারণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক জরিপের ফল তাই নতুন করে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এনজে