অর্থনীতিতে সিএমএসএমইর অবদান ৬০ শতাংশ করতে চায় সরকার

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০৫ ২০:০৪:০৫


  • বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমইর অবদান প্রায় ৩৪ শতাংশ
  • চলমান ও নতুন শিল্প প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ শিল্পমন্ত্রীর
  • ৮৪ শিল্প পার্কের অবণ্টিত প্লট দ্রুত উদ্যোক্তাদের বরাদ্দের নির্দেশ
  • দেশের ৮৪ শিল্প পার্কে বছরে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড
  • শিল্প পার্ক থেকে বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি

দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র, কুটির, মাইক্রো, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের অবদান অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

রোববার (৫ জুলাই) ‘জাতীয় অর্থনীতিতে বিসিক শিল্পনগরীসমূহের অবদান ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) আয়োজনে বিসিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, চলমান ও নতুন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিল্প খাতের সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে। এ লক্ষ্যে আগামী সাত দিনের মধ্যে বিসিক কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন তিনি।

তিনি জানান, প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।

শিল্পমন্ত্রী দেশের ৮৪টি শিল্প পার্কের অবণ্টিত প্লট দ্রুত উদ্যোক্তাদের নামে বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, বরাদ্দ দেওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা প্লটগুলো দ্রুত নতুন উদ্যোক্তাদের কাছে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শিল্প পার্কগুলোতে কোথায় কি সমস্যা রয়েছে এবং কীভাবে দ্রুত সেগুলো উৎপাদনের আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে বাস্তবসম্মত সুপারিশ জমা দিতে হবে। এ কাজকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অন্যতম প্রধান কর্মদক্ষতার সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, যেসব শিল্প পার্কের সব প্লট বরাদ্দ হয়ে গেছে, সেগুলো নতুন শিল্প পার্ক স্থাপন বা বিদ্যমান শিল্প পার্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। এসব এলাকায় সম্ভাব্যতা যাচাই করে নতুন শিল্প পার্ক নির্মাণ বা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিসিকের চলমান বেশ কয়েকটি প্রকল্প দীর্ঘসূত্রতার কারণে পিছিয়ে আছে। এসব প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি চলতি বছরই নতুন কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হবে।

শিল্পমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩৪ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্য এই অবদান ৬০ শতাংশে উন্নীত করা।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের ৮৪টি শিল্প পার্ক থেকে বছরে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এসব শিল্প পার্ক থেকে বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হলেও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও তুলনামূলক বিশ্লেষণে এ অর্জন এখনো সন্তোষজনক নয়।

তিনি আরও বলেন, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো তুলনীয় অর্থনীতির দেশগুলোতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশেও এ খাতের বিস্তার বাড়লে আয়বৈষম্য কমবে এবং অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, জেলার সম্ভাবনাভিত্তিক শিল্পায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোথাও কৃষিপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, কোথাও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প—যেখানে যে শিল্পের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে আরও বেশি উদ্যোক্তা যুক্ত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতামত ও তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিসিকের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের শিল্পায়নের বাস্তব রূপ। বাংলাদেশের উন্নয়ন ধারায় এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমেই আমরা একটি সুখী-সমৃদ্ধ-শিল্পায়িত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো এটাই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে বিসিক নিরলস কাজ করে যাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান।

এএ