দেশে এখনো কার্যকর বন্ড বাজার গড়ে ওঠেনি: বিএসইসি চেয়ারম্যান

সানবিডি২৪ প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২৬-০৭-১৮ ১৫:৫৩:২৭


দেশে এখনো কার্যকর বন্ড বাজার গড়ে ওঠেনি মন্তব্য করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, ব্যাংক ঋণের তুলনায় বন্ডের মাধ্যমে অর্থায়নের খরচ বেশি এবং এ প্রক্রিয়ায় সময়ও বেশি লাগে। তাই টেকসই বন্ড (সাসটেইনেবল বন্ড) বাজার গড়ে তুলতে হলে আগে প্রচলিত বন্ড বাজারকে শক্তিশালী করতে হবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম ও সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ সামিট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে আকিজ বশির গ্রুপ পরিবেশনায়, এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) সঞ্চালনায় এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও বিজিএমইএ সহযোগী হিসেবে রয়েছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, দুঃখের সঙ্গে আবারও বলছি, দেশের শেয়ারবাজারে অধিকাংশই খুচরা বিনিয়োগকারী। তারা শেয়ার সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। অন্য কেউ দাম বাড়বে বলেছে বলেই তারা বিনিয়োগ করেন।

মাসুদ খান বলেন, ‌‌বাংলাদেশে কার্যকর বন্ড বাজারই নেই। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ডে সরকারি সিকিউরিটিজ (জি-সেক) ছাড়া অন্য কোনো বন্ড লেনদেন হয় না। এটাই বর্তমান বাস্তবতা।

তিনি বলেন, আমাদের শেষ পর্যন্ত টেকসই বন্ডের দিকে যেতে হবে। কিন্তু আমরা এখনো প্রস্তুত নই। কারণ প্রচলিত বন্ড বাজারকেই এখনো কার্যকর করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের অবশ্যই টেকসই বন্ডের দিকে যেতে হবে। তবে তার আগে প্রচলিত বন্ড বাজারের ভিত্তি শক্ত করতে হবে। বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমি সেটিই করার চেষ্টা করছি, যাতে খুব দ্রুত বাংলাদেশে বন্ড বাজার সক্রিয় করা যায়।

তিনি বলেন, বহু বছর ধরে বলা হচ্ছে যে দেশে বন্ড বাজার গড়ে তুলতে হবে, কিন্তু কিছুই হয়নি। তবে আমি মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই বুঝতে পেরেছি কেন দেশের বন্ড বাজার সক্রিয় নয়। কারণটি খুবই সহজ। যদি আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে চাই, তিন মাসের মধ্যে নির্দিষ্ট খরচে ঋণ পাওয়া যায়। কিন্তু বন্ডের মাধ্যমে অর্থ তুলতে গেলে এক বছর সময় লাগে, আর খরচও বেশি পড়ে। তাই বন্ড ইস্যুর সময় কমাতে হবে ও এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের খরচ ব্যাংক ঋণের চেয়ে কম হয়। এটি আমরা বাস্তবায়ন করবো।

করপোরেট গভর্ন্যান্স প্রসঙ্গে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সবাই করপোরেট গভর্ন্যান্সের গুরুত্ব জানি। যে প্রতিষ্ঠানগুলো করপোরেট গভর্ন্যান্স চর্চা করে, সেগুলোই আস্থার প্রতিষ্ঠান। বোর্ডে বৈচিত্র্য, অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ—এসব বিষয় আমাদের জানা।

তিনি বলেন, স্বাধীন পরিচালকদের (ইনডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর) বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, বাংলাদেশে এখনো এটি মূলত আইনি আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ।

বাংলাদেশের অনেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, অনেক স্বাধীন পরিচালকই বোর্ড সভায় কীভাবে অবদান রাখতে হবে, তা জানেন না। তাদের আরও প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা প্রয়োজন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘টেকসইতা এখন আর বছরে একবার আলোচনা করে ফেলে রাখার মতো কোনো ধারণা নয়— এটি এমন একটি চর্চা, যা প্রতিটি ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠানের মূল সত্তায় প্রোথিত হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ যখন ২০৩০ সালের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন দায়িত্বশীল ব্যবসা কোনো বিকল্প নয়—এটাই আমাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ভিত্তি। এখনই সময় দায়বদ্ধতা থেকে কার্যকর প্রভাবে এবং কমপ্লায়েন্স থেকে দায়িত্বশীল আচরণে উত্তরণের।’

দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও সামাজিক উদ্যোক্তারা অংশ নিয়েছেন।

বিএইচ