ট্রাম্পের স্বাক্ষর ‘মূল্যহীন’, জবরদস্তিই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি: মোজতবা খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২৬-০৭-১৯ ১২:০৯:৫৬


যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরও ইরানের ওপর অব্যহত মার্কিন হামলার কড়া সমালোচনা করে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, ট্রাম্পের স্বাক্ষর ‘মূল্যহীন’ এবং ‘ধমক, জবরদস্তিই’ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির মূল উপাদান।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনির একটি লিখিত বিবৃতি পাঠ করা হয়।

বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, চুক্তির বিপরীতে ‘গ্রেট শয়তানের’ বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা আবারও সবার কাছে প্রমাণ করেছে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ,এবং ধমক, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতাই হলো আমেরিকান মতবাদ ও পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য উপাদান।

খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রকৃত মুখ উন্মোচন করেছে; যা তাদের ‘প্রতারণা, অযৌক্তিকতা, অবিশ্বস্ততা’ প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মোজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান এবং এর আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ পেতে হবে।

বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন যুদ্ধ উসকে দিতে চাইছে এবং তারা আরও বেশি ক্ষতি ও অপমানের মুখোমুখি হতে চলেছে, তাদের জেনে রাখা উচিত ইরানের গোটা জাতি এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের কাছে তাদের জন্য অবিস্মরণীয় শিক্ষা অপেক্ষা করছে।

তিনি ইরানীদের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখে দেশকে রক্ষা করার আহ্বান জানান এবং যুদ্ধের তীব্রতা চলাকালীন জনগণকে ‘সতর্ক ও সক্রিয়’ থাকার অনুরোধ করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা বানানো হয়।
এই সপ্তাহে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো সেতু, রেললাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট, টেলিকমিউকেশন টাওয়ারকে লক্ষ্যবস্তু করে ইরানের ওপর হামলা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে তেহরান কুয়েত, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনার ওপর হামলা চালিয়েছে।

গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য ছিল স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করার পরিস্থিতি তৈরি করা। সমঝোতা স্মারকে সই করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তেহরান এবং ওয়াশিংটন একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করার পর থেকে চুক্তিটিকে ‘বাতিল’ বলে ঘোষণা করেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

বিএইচ