ইরানের হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত, জবাবে ভয়াবহ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২৬-০৭-১৯ ০৮:৫৮:১০
জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও এক মার্কিন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। মার্কিন সেনাদের এই প্রাণহানির পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রতিশোধ নিতে ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক ও ভয়াবহ পাল্টা বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
রোববার (১৯ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে শনিবার(১৮ জুলাই) রাতে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে এই ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়। টানা অষ্টম রাতের মতো পরিচালিত এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানো ইরানের শক্তিশালী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি) বাহিনীকে দ্রুত কঠোর শাস্তি দেওয়া। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের হুমকি দেওয়ার সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানে শুক্রবার(১৭ জুলাই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর চারজন মার্কিন সেনাসদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জর্ডানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং আহত অন্য সেনারা ইতিমধ্যে নিজেদের দায়িত্বে ফিরেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ঈশ্বর তোমাদের মঙ্গল করুন, বীরেরা। তোমাদের এই আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।’
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরজিসির বরাতে দাবি করেছে, শনিবার ভোরে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে ইরানের নিখুঁত হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে বিবিসি এই দাবির বিষয়ে সেন্টকমের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ কোনো বিস্তারিত তথ্য দিতে বা মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এর আগে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তারা রাতভর তাদের আকাশসীমায় ধেয়ে আসা ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। চলতি মাসের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলটকে মৃত ঘোষণা করার পর বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ নিয়ে মোট মার্কিন সেনার মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভয়াবহ উত্তেজনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় কঠোর অর্থনৈতিক ও নৌ অবরোধ আরোপ করার পর পাল্টা জবাবে তেহরানও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে শনিবার গভীর রাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক কড়া বিবৃতিতে বলেন, ‘আমেরিকার বারবার আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা একটি মৌলিক সত্য উন্মোচন করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর সম্পূর্ণ মূল্যহীন। এটি বিশ্ববাসীর কাছে মার্কিন প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা পুরোপুরি নষ্ট করেছে।’
বিএইচ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














