তরুন প্রজন্ম জাগলে গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করা যাবে না

আপডেট: ২০১৭-০৭-০৫ ১৭:৪০:০৬


N.Hiraবর্তমানে দেশে  বেকার মানুষের সংখ্যা ২৬ লাখের উপরে। শতাংশের দিক থেকে এ হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সম্প্রতি শ্রমশক্তি  জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে না। কোটি কোটি মানুষ বেকার থাকতে থাকতে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ২০১৩ সালের শ্রমশক্তি জরিপেও দেশে বেকারের সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ। এ হিসাবে গত কয়েক বছরে বেকার মানুষের সংখ্যার কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাহলে সরকার যে উন্নয়ন আর বেকারত্ব মোচনের গলাবাজি করে  আসছে, কি হলো সে পরিসংখ্যানের।  দলীয় মন্ত্রী-এমপিরা, এমনভাবে কথা বলছেন, মনে হয় দেশের সব ঠিক ঠাক আছে। কোথায়ও কোন সমস্যা নেই। এরা বিরোধী দলের লোকদের এমনভাবে গালি গালাজ করছেন ও প্রধানমন্ত্রীর চাটুকারিতা করছেন তাতে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিস্কার কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই বলে নতুন কোন বিনিয়োগ হচ্ছে না, সৃষ্টি হচ্ছে না নতুন কর্ম ক্ষেত্র।তাই প্রতিনিয়ত বেকারত্ব বেড়েই চলেছে, থামানো যাচ্ছে এই ট্রেনকে। রাজনীতিবিদরা নীরব দর্শকের কাতারে দাঁড়িয়ে দেখছে। তাহলে আমাদের রাজনীতি কিসের জন্য। রাজনীতি তো করা জনগণের কল্যাণের জন্য । সেই কল্যাণ যদি জনগণের অকল্যাণে পরিণত হয়, তাহলে এই রাজনীতির কোনো অর্থ হয় না।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রাজনীতির উপর মানুষের যেই ঘৃণা জন্মেছে, সেই ঘৃণা কাটিয়ে তরুন ও শিক্ষিত রাজনীতিবিদদের মাঝে আশার আলো সঞ্চার করতে পারবে অগ্রজ প্রতিম আদর্শ পুরুষ ববি হাজ্জাজের এনডিএম। আমি আরো বিশ্বাস করি, আপনারা যদি রাজনীতিকে ঘৃণা না করে রাজনীতিতে সক্রিয় ভুমিকা রাখতেন, তাহলে হয়তো আজকে অশিক্ষিত, মূর্খ, বর্বর প্রজাতির হীন মানসিকতার বিকলাঙ্গ মানুষগুলো অন্তত রাজনীতিতে প্রবেশ করার সাহস পেত না।

প্রাণহীন দেহ আর গণতন্ত্রহীন সমাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক  আন্দোলনের তরুন প্রজন্মের সৈনিকেরা জেগে উঠলে কোন অপশক্তিই বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করতে পারবে না এবং একটি  স্বপ্নের সুন্দর বাংলাদেশ বির্নিমান করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত আবদুল কালাম সর্বশেষ ২০১৪ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। সেখানে এই বিশ্ববরেণ্য পরমাণুবিজ্ঞানী বলেছিলেন, বাংলাদেশের তিনটি বড় সম্পদ রয়েছে অগ্রসরমাণ তরুণ প্রজন্ম, বিশ্ব-সমাদৃত তৈরি পোশাক খাত ও বিশাল জলরাশি। উন্নত ও সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পা রাখতে এসব সম্পদ বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক হানাহানির কারনে  এ অগ্রসরমাণ তরুণ প্রজন্ম কে আমরা কাজে লাগাতে পারছি না, সব সুযোগ গুলোকে আমরা হাতছাড়া করছি।

বাংলাদেশের তরুনরা অনেক সম্ভবনাময়। এ দেশের তরুনদের  আধিক্য আমাদের ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথনির্দেশক । পক্ষান্তরে তরুনদের  এই নিস্ক্রিয়তাও তেমনি উদ্যেগজনক।

পৃথিবীতে একটা পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। কেউ না কেউ সেই পরিবর্তনটা আনবে। সেই একজনটা আপনি নয় কেন? আসুন এ যুব সমাজ কে কাজে লাগিয়ে এনডিএম কে শক্তিশালী করি। একটা অগ্রসরমাণ সমাজ পেতে হলে আমাদের প্রজন্মের সামনে এটাই চ্যালেঞ্জ। আমরা প্রজম্মের প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের প্রজম্ম আর আমাদের পৃথিবী আমাদেরই সাজাতে হবে।

কেন্দ্রীয় আহবায়ক

গণতান্ত্রিক যুব আন্দোলন