ভিজিএফ’র চাল আত্মসাৎ: প্রতিবাদে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ২০১৫-১০-২৯ ০০:২৪:২৮

chakaria conakhali pc 29-10-15,,কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফের চাল আত্মসাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার সকাল ১১টায় কোনাখালী পরিষদ ও বটতলি এলাকায় এঘটনা ঘটে। অনিয়মের খবরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে চাউল বিতরণের সময় ওজনে কম দেওয়ায় হাতে-নাতে ২ জনকে আটক করে চকরিয়া থানায় সোপর্দ করেছে। আটককৃতরা হলেন, মৃত গুরা মিয়ার পুত্র রেজাউল করিম (৪৫) ও কাসেম আলীর পুত্র জামাল উদ্দিন (৫১)।
জানা গেছে, কয়েক দফা ভয়াবহ বন্যায় চকরিয়ার রাস্তা, ঘাট, বেড়িবাধ ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যাদূর্গত লোকজনের সহায় হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এসব ত্রাণ ও নগদ অর্থ ধারাবাহিকভাবে উপজেলা জুড়ে বিতরণ হয়ে আসছে স্ব স্ব ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে।
কোনাখালী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বটতলি গ্রামের মোতাহেরা, মিনহার, লাইলা, নুর নাহার, খালেদা বেগম, মোবারক খাতুন, হামিদা, ছেনুয়ারা, শাহানা, ফাতেমা, পাখি বেগম, নাসির উদ্দিন, শামসুল আলম, মনির আহমদ ও কুদ্দুছ আহমদসহ বিক্ষুদ্ধ শতশত নারী-পুরুষ মানবন্ধন ও বিক্ষোভকালে জানান, কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার, ইউপি সদস্য যথাক্রমে আবদুন নবী, আবদুর রহিম, মৌলভী আনিছ, মহিলা সদস্যা আছিয়া খাতুন, ইসমত আরা, চৌকিদার শফিউল আলম ও চেয়ারম্যানের সহকারি শহিদুলসহ তাদের সহযোগিতায় নগদ অর্থ বিতরণ থেকে শুরু করে ভিজিএফ ও ভিজিডি‘র চাল বিতরণে নানাভাবে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে আসছে।
সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বরাদ্ধের অধীনে মাথা পিছু বা কার্ড প্রতি ২০ কেজি করে ৩ দফায় ৬০ কেজি ভিজিএফ চাউল বিতরণে আশ্রয় নেওয়া হয়েছে অনিয়মের। প্রথম দুই দফার ৪০ কেজি করে চাউল বিতরণের সময় অনেকের কাছ থেকে নগদ ৩ শত টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এমনকি চাউল বিতরণে দু মাসের ৪০কেজির স্থলে চাল দেওয়া হয়েছে ২৫ কেজি করে।
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার বলেন, তার ইউনিয়নের জন্য বরাদ্ধ পাওয়া ২ হাজার জন উপকারভোগীর স্থলে কিছু চাউল কম দিয়ে ২৩০০ জনকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এখানে চাল বিতরণের অনিয়মের বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইউপি সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরাসরি পরিষদে গিয়ে তাৎক্ষনিক বিষয়টি তদন্ত করা হয়। এসময় ভিজিএফ নেওয়া কয়েকজনের চাল পরিমাপ করে তাতে ২০ কেজি চালের স্থলে ১৫ থেকে ১৬ কেজি করে চাল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন।

Print Print