ইলেকটাস প্যারট

আপডেট: ২০১৭-০৭-১০ ১৭:৪১:১৮


f-Eclectus_01বিদেশি পাখি ইলেকটাস প্যারট। চনমনে প্রকৃতির; আবার যথেষ্ট বুদ্ধিও ধরে এমনই এক প্রকারের পাখি এটি। সাধারণত তিন প্রজাতির ইলেকটাস দেখতে পাওয়া যায়। গ্র্যান্ড ইলেকটাস, ভসমেয়ারি ইলেকটাস এবং সোলোমন আইল্যান্ড ইলেকটাস। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় সোলোমন আইল্যান্ড ইলেকটাস। এই পাখির দৈহিক গড়ন যেমন সুন্দর, তেমন আকর্ষণীয়। এর মধ্যে বিরল ও দুর্লভ পাখি ইলেকটাস প্যারট। পুরো উপমহাদেশে কয়েকশ ইলেকটাস প্যারট রয়েছে। বাংলাদেশে এই প্রজাতির মাত্র ১০-১১ জোড়া পাখি আছে।

ইলেকটাস প্যারটের কাজ চমকে দেওয়ার মতো। সুদূর অস্ট্রেলিয়া, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং আমাজনের বনাঞ্চলে এসব পাখির বসবাস।

f- Eclectus_0৩

শারীরিক গঠন:

ইলেকটাস প্যারটের মধ্যে পুরুষ ও স্ত্রী পাখি চেনা খুব সহজ। একবার দেখেই চট করে বোঝা যায়, কোনটা পুরুষ আর কোনটা স্ত্রী ইলেকটাস। পুরুষ ইলেকটাসের পালকের রঙ উজ্জ্বল সবুজ; ঠোঁট হলদেটে কমলা রঙের। এদের ডানাতে একটা নীলচে ছোপ থাকে। ডানার নিচের দিকে পালকের রঙ হয় লালচে।

f-Eclectus_৬ copy

অপরদিকে স্ত্রী ইলেকটাসের পালকের রঙ লাল আর পেটের নিচের দিকে ঘন বেগুনী। এদের ঠোঁটের রঙ কালো। এই প্রার্থক্যগুলো পর্যবেক্ষণ করার পর তাদের প্রজননও অপেক্ষাকৃত সহজ। ইলেকটাস প্যারট প্রায় ১৪ ইঞ্চি লম্বা। এই প্রজাতির প্রতিটি পাখির ওজন ৩৭০ থেকে ৫২৫ গ্রামের মধ্যে হয়।

চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য:

ইলেকটাস বুদ্ধিমান, ভদ্র স্বভাবের পাখি। শান্ত স্বভাবের কারণে এরা সহজেই পোষ মানে; আর খুব কম সময়ের মধ্যে পরিবারের একজন আদরের সদস্য হয়ে যায়। এরা খুব চনমনে প্রকৃতির; বাচ্চাদের সঙ্গ ভীষন পছন্দ করে। তবে উত্যক্ত করলে খুব বিরক্ত হয় ইলেকটাস প্যারট। এই পাখি চেঁচামেচি একেবারেই পছন্দ করে না। এরা খুব ভালোভাবে কথা বলতে পারে। এমনকি স্পষ্ট উচ্চারণে গানও গায়তে পারে এই পাখি। যেখানে-সেখানে নিজেদের পালক ছিঁড়তে পছন্দ করে দুষ্টু স্বভাবের পাখিটি।

খাবার ও যত্ন:

ইলেকটাস প্যারট বাড়িতে রাখার জন্য একটু বড় খাঁচার প্রয়োজন হয়। পোষ মানার পর দিনের কিছুটা সময় খাঁচার বাইরেও রাখা যায়। কোনো খেলনা পেলে খেলায় মেতে থাকে এই প্রজাতির পাখি।

নানা রকম ফল ও সবজি পছন্দ করে ইলেকটাস প্যারট। ভিটামিন ‘এ’ আর ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার তাদের দেওয়া উচিৎ ৷ তবে বেশি আয়রন সমৃদ্ধ খাবার দিলে শরীর খারাপের আশঙ্কা থাকে যায়।

লক্ষ্যণীয়:

ইলেকটাস প্যারটের  আয়ু সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ বছর হয়।