নিবন্ধন হারাতে পারে ১১ ইসলামী দল

প্রকাশ: ২০১৭-০৭-১৮ ১৯:১৪:৩৭


ECনির্বাচন কমিশন সময় না বাড়ালে নিবন্ধিত প্রায় ১১টি ইসলামী দল নিবন্ধন হারাতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন সূত্র।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত কোনো দলের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের কোনো কমিটিতেই নারী সদস্য নেই যেমন দলও রয়েছে। তেমনি কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী রয়েছে, কিন্তু তৃণমূলের কোনো স্তরেই নেই এমনও রয়েছে।

এ চিত্র নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ইসলামী দলগুলোর মধ্যে বিরাজ করছে। তাদের সামনেই মাত্র সাড়ে তিন বছরে ৩৩% নারী অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যমাত্রা ঝুলছে।

এ অবস্থায় ইসলামী দলগুলোর নেতারা বলছেন, দেশের রক্ষণশীল বাস্তবতা বিবেচনায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নির্ধারিত সময়ের সম্ভব তো নই, বরং তার সময়সীমা বাড়াতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী নেতৃত্বের বিকাশের প্রতি তাদের সমর্থন থাকলেও স্বল্প সময়ে ৩৩% নারী রাখার বিষয়টি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

ইসির আসন্ন সংলাপে সময় বাড়ানোর বিষয়ে দাবি তুলবেন বলে জানিয়েছেন অনেক নেতা। ২০২০ সালের মধ্যে সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয়েছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো।

কিন্তু অধিকাংশ দল গত নয় বছরে লক্ষ্যের অর্ধেকও পূরণ করতে পারেনি। এ অবস্থায় গত ১৩ জুন নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত ৪০টি দলের কাছে ‘নারী প্রতিনিধিত্ব অন্তর্ভুক্তির’ সর্বশেষ তথ্য চেয়ে তাগিদ দেয়।

আগামী তিন বছরে কমিটিতে নারী অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি জানিয়ে ইসিকে চিঠি দিয়েছে খেলাফত মজলিশ। এ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল কমিটির কোথাও নারী নেতৃত্ব নেই।

দলটির মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বলেন, “কমিশনকে জানিয়েছি- আমরা প্রক্রিয়া শুরু করছি। এ সংগঠনে যেহেতু নারী প্রতিনিধিত্ব নেই; তাই আগামীতে সব কমিটিতে কিভাবে তাদের রাখা যায় এবং মহিলাদের জন্য আলাদা শাখা করার বিষয়ে পরবর্তী সেশনে আমরা আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।”

ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোয় নারী প্রতিনিধিত্ব ৩৩ শতাংশ রাখা খুবই কঠিন বলেন জানান তিনি।

ধর্মীয় দলগুলোর জন্যে এ সমস্যাটা বেশি। বাস্তবে অনেক দলেরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিলা সদস্য কমিটিতেনেই। বাস্তবতা বিবেচনা করে এ সময়সীমা বাড়ানো উচিত বলে মনে করি আমরা বলেন মহাসচিব।

বাংলাদেশ মুসলীম লীগ-বিএমএল মহাসচিব অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী বলেন, “ইসলামী দলগুলোর মধ্যে আমরাই সব থেকে এগিয়ে রয়েছি নারী প্রতিনিধিত্ব রাখায়। রাষ্ট্রপতির কাছে সংলাপে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম ইসিতে একজন নারী সদস্য রাখতে। আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতেই ৫ জন মহিলা রয়েছেন।”

আগামী সপ্তাহের মধ্যে দলের অগ্রগতি প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. আবদুল লতিফ নেজামী জানান, দলটির পক্ষ থেকেও শিগগির ইসিতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

কোনো দলেই তো এখনও ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নেই। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিরও নেই। আমাদের দেশ রক্ষণশীল। ইসলামী রাজনীতিতে এটা পূরণ করতে সময় লাগবে।

ঐক্যজোটে নারী প্রতিনিধিত্ব থাকলেও ২০২০ সালের মধ্যে সার্বিকভাবে ৩৩ % প্রতিনিধিত্ব রাখার বাধ্যবাধকতা দলগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মাওলানা নেজামী বলেন, আমাদের নির্বাহী কমিটিতে নারী প্রতিনিধি রয়েছে। দেশের সব পর্যায়ে নারীর প্রতিনিধিত্ব ধীরে ধীরে বাড়ছে। এর কারণে ইসলামী রাজনীতিতে এটা সামগ্রিকভাবে আমরা বিপাকে রয়েছি তা নয়; বরং চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি, সময় লাগবে।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপের সময় লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর দাবি তুলবে দলটি।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মহাসচিব আবুল বাশার মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন জুবাইর বলেন, আমাদের দলেরও নারী সদস্য রয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী রয়েছে, কিন্তু তৃণমূলে নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩৩ শতাংশ পূরণ করা কঠিন।

কমিশনকে আমরা জানিয়েছি, আমাদের দল শর্ত পূরণের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। যথাসময়ে তা পূরণের চেষ্টা করবে। ২০২০ সালের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুল হক ফারুক জানান, দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে কয়েকজন নারী সদস্য থাকলেও তৃণমূলের কমিটির অনেক পদ খালি রাখা হয়েছে।

আমাদের দলে নারী সদস্য রয়েছে। কিন্তু তাদেরকে সক্রিয় করাটাই মূল চ্যালেঞ্জ। সক্রিয় না থাকলে কমিটিতে রেখে তো লাভ নেই। আগামীতে যোগ্য সদস্যদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আশা করি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবো।

দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে শিগগির ইসিতে প্রতিবেদন দেবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক সেলিম মিয়াজি জানান, কমিটিতে নারী প্রতিনিধি থাকলেও তার হার এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। সার্বিকভাবে আগামীতে নতুন কমিটিতে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হবে।

সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা করে নারীদের অন্তর্ভুক্তি আরও বাড়ানোর বিষয়টিপ্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরাও লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সময় চাইবো বলেন তিনি।

বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ৪০টি দলের মধ্যে রয়েছে।

এখনও প্রতিশ্রুতি ও সময় চেয়েছে জেএসডি

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে দলের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। দলটিসব স্তরে ১৫ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্বের তথ্য জানিয়েছে।

জাকের পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এজাজুর রসুল নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে, দলের সব স্তরের ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বিষয়টি গঠনতন্ত্রে রাখা হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জাতীয় পার্টি-জেপির মহাসচিবের পক্ষে যুগ্ম সম্পাদক এম সালাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, ২০২০ সালের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে এগিয়ে যাবে দলটি।