সিদ্দিকুরের চোখ লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ছুড়েছিল পুলিশ!

প্রকাশ: ২০১৭-০৭-২৬ ১৩:১৪:০৬


Tiarsell‘খুব কাছ থেকে টার্গেট করে সিদ্দিকুর রহমানের চোখ লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ছোড়া হয়। সেসময়ই সিদ্দিক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাহলে পুলিশ যে সিদ্দিকের চোখের আঘাত নিয়ে এখন নানা কথা বলছে তার কী হবে? ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, ৫ হাতের কম দূরত্ব থেকে পুলিশ টার্গেট করে টিয়ারশেল ছুড়ছে। তাহলে এখন কী আমরা সিদ্দিকের ওপর হামলার জন্য পুলিশের বিচার চাইতে পারি না?’
সেদিনের ঘটনার এভাবেই বর্ণনা দিলেন সিদ্দিকুর রহমানের বন্ধু ও সহপাঠীরা। গত সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যম কার্যালয়ে এসে তারা এই তথ্য জানিয়েছেন। আহত সিদ্দিক এখন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গত সোমবার বিকালে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন মাঠে দ্বিতীয় বিভাগ কাবাডির ফাইনাল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘টিয়ারশেল  সাধারণত পুলিশ এভাবে মারে না। ৪৫ ডিগ্রি ওপরের দিকে মারে। এটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তবু একটা কিছু হয়তো ঘটেছে।’
একইদিন সিদ্দিকুর রহমানকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘টিয়ারশেলের গ্যাস গান কখনো সরাসরি নিক্ষেপ করা যায় না। নিচুতেও নিক্ষেপ করা যায় না। তাহলে শেলটা পড়ে যায় এবং বিস্ফোরিত হয় না। এটাকে মিনিমাম ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে মারতে হয়। যাতে বাতাসে এটা বিস্ফোরিত হয়ে গ্যাসটা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেলটা আস্তে করে নিচে পড়ে যায়।’ পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বিষয়টি স্যাবোটাজ কি না-সেটাও আমরা খতিয়ে দেখছি।
অথচ ঘটনার দিনের ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে নয়, সরাসরি খুব কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এর পরপরই সিদ্দিকুর পড়ে যান। ভিডিওতে দেখা গেছে, ২০ জুলাই শাহবাগে পরীক্ষার রুটিনসহ তারিখের দাবিতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন শেষে মিছিল বের করলে পুলিশ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। তখনই একদম কাছ থেকে পুলিশ ছাত্রদের টার্গেট করে টিয়ারশেল ছোড়ে। এসময় সেখানে থাকা নীল পাঞ্জাবি পরা সিদ্দিকুর রহমান মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং তাকে সে অবস্থায় রেখেই পুলিশ সামনে থাকা ছাত্রদের দিকে তেড়ে যায়। সিদ্দিকুরের একজন সহপাঠী বলেন, ‘যখন ছাত্রদের অযথাই ধরে নিয়ে যাচ্ছিল তখন সিদ্দিকুর একজনকে উদ্ধারে এগিয়ে যায়। এরপর তার চোখ লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ছোড়া হয়।’
এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পাবলিক রিলেশন) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা ভিডিও ফুটেজসহ আরও অনেক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। এরই মধ্যে একটি মামলা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে গত সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিদ্দিকুর রহমানকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে পাঠাবে সরকার।