আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে সংলাপ শুরু হয়েছে: সিইসি

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-০১ ০৯:২০:০৬


ecপ্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে সংলাপ শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত কমিশনের সব কার্যজক্রম নিরপেক্ষভাবে করা হয়েছে। বলা যায়- আস্থা অর্জনের কাজগুলো কমিশনে করে যাচ্ছে। সোমবার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ শেষে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, “ইসি একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। সেখানে সরকারের কারা থাকবে বা কারা থাকবে না সেটার চেয়েও বড় কথা হলো- কঠোরভাবে, কঠিনভাবে এ নির্বাচন পরিচালনা আমাদের করতে হবে। জাতি আমাদের কাছে প্রত্যাশা করে সুষ্ঠু, ভালো নির্বাচন। আমরা যেন তা করতে পারি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তা মনে করিয়ে দিয়েছেন।”সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা থেকে উঠে আসা পরামর্শের ভিত্তিতে প্রয়োজনে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করেই সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।

ধারবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, “আমাদের ধারাবাহিক আলোচনা হবে। সবার বক্তব্য শুনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন করব। সেখান থেকে যেসব উপাদান.. সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করা প্রয়োজন সেগুলো আমরা সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনের কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় চিন্তা করব।” নাগরিক সমারে প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে সিইসি বলেন, “তাদেরকে আমরা আশ্বস্ত করেছি- আইনের আলোকে নির্বাচন পরিচালনার যে ক্ষমতা ইসির সাংবিধানিকভাবে রয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে করা হবে।”

সিইসি জানান, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সবচেয়ে বেশি পরামর্শ দিয়েছেন কমিশনকে ‘সাহসিকতার’ সঙ্গে কাজ করার জন্য; তাগিদ দিয়েছেন জনগণের আস্থা অর্জনের। সংলাপের মাধ্যমে সরকার ও রাজনৈতিক দলের ওপর প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন সিইসি। তবে সংলাপের সুপারিশ নিয়ে সরকার চাপে থাকবে কিনা তা নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

সিইসি বলেন, “রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে অনেকে বলেছেন এসব ইসির এখতিয়ারভুক্ত না। সরকার গঠন করা বা কেয়ারটেকার গঠনে কোনটা ইসির এখতিয়ারে রয়েছে, কোনটা নেই- উনারা বিজ্ঞ ব্যক্তি, তারা জানেনও। তবে সবার কথা প্রতিবেদন আকারে সরকারের কাছে পাঠাব, এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠাব।”

সংলাপের মাধ্যমে বিএনপিকে আস্থায় আনা কিংবা সরকারকে চাপে রাখা হবে কীনা- এমন প্রশ্নে নূরুল হুদা বলেন, “আমার তো মনে হয়, সরকারের কাছে বার্তা পৌঁছবে সুশীল সমাজ কী ভাবেন; যারা বিরোধী দলে বা সংসদের বাইরে রয়েছে তাদের কাছেও তা পৌঁছে যাবে। আমার মনে হয়, এতে তারা একটা সমঝোতায় আসতে পারবেন। আমরা ধারণা- এর মাধ্যমে একটা প্রভাব পড়বে; তবে বাধ্য করতে (সুশীল সমাজের চাওয়া বাস্তবায়ন) পারব কিনা জানি না।”

সিইসি জানান, সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপে ভোটে সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে যেমন অনেকে দাবি তুলেছেন, তেমনি সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিলে পুলিশ, বিজিবি ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অন্যদের ক্ষমতা খর্ব হবে বলেও মত দিয়েছেন। অনেকে না ভোট চালুসহ নানা ধরনের সুপারিশ তুলে ধরেছেন বলেও জানান নূরুল হুদা।