বিড়ি শিল্প নিয়ে অর্থমন্ত্রীর নেতিবাচক মন্তব্যের প্রতিবাদ

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-০৩ ১১:২৭:৩৮


 

Biriবিড়ি শিল্প নিয়ে অর্থমন্ত্রীর নেতিবাচক মন্তব্যের প্রতিবাদ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এ সংবাদ অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিড়ি শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিক মালিকেরা গত তিন মাস ধরে আন্দোলন করে আসলেও অর্থমন্ত্রী বরংবার অশালীন ও উদ্ভট বক্তব্য প্রদান করে আসছেন

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে তামাক ও তামাকজাত পণ্যের কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন,ভবিষ্যতে দেশে আর কমদামি বিড়ি-সিগারেট থাকবে না। দামে কম এসব তামাক পণ্য স্বাস্থ্যের জন্য খুব বেশি ক্ষতিকারক।’

অর্থ মন্ত্রীর বক্তব্যকে জনবিরোধী উল্লেখ করে নেতারা বলেন, একটি দেশীয় প্রযুক্তি নির্ভর শিল্প শিল্প হিসেবে সাধারন মানুষের ধুমপান সামগ্রী হিসেবে বহুল প্রচলিত এবং সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকর। আমরা বুঝতে পারি বিদেশী পুঁজিবাদীদের স্বার্থ রক্ষায় দেশীয় শিল্প ধংসের অপচেষ্টা শুরু হয়েছে।

বিড়ি শিল্প বন্ধের আগে মেহেনতি মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি উত্থাপন করেন সংগঠনের সদস্যরা।

ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক এমকে বাঙ্গালীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল।

অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, বিড়ি এক হাজার বিড়ি বানানোর জন্য বিড়ি শ্রমিক মজুরি পান একত্রিশ টাকা। পরিবারের সবাই মিলে চার থেকে পাঁচ হাজার বিড়ি তৈরী করতে পারে যার সামষ্টিক মজুরি সর্বোচ্চ দেড়শ টাকা।

দেশের কমপক্ষে ১৭-২০ লক্ষ শ্রমিক বিড়ি শিল্পের সাথে জড়িত। মাননীয় অর্থমন্ত্রী বাজেটে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে বিড়ি শিল্প বন্ধে বরংবার নেতিবাচক মন্তব্য করে আসছেন বলে দাবি সংগঠনের নেতাদের।

অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাদী বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়বদ্ধ কিনা আমরা জানি না। তবে গরীব শ্রমজীবি মানুষের শিল্প ধংস করে ধুমপান সামগ্রীর বাজারকে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিচ্ছেন। মন্ত্রী তেরোটি সিগারেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা করে বিড়ি শিল্প ধংস করার ঘোষনা দিয়েছেন। আমরা দেখেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিড়ির উপড় কর কমিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন গবেষনা প্রতিষ্ঠান আরডিএস এর সাধারন সম্পাদক জান্নাত-এ-ফেরদৌসি, ফেডারেশনের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান, সহ-সম্পাদক হারিক হোসেন, প্রণব দেবনাথ প্রমুখ।

সানবিডি/ঢাকা