‘নারীকে আবার ঘরে পাঠানোর অপতৎপরতা চলছে’

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-০৮ ১১:৩৫:৩৫


Womenনারীকে আবারো ঘরে পাঠানোর অপতত্পরতা চলছে; যার কারণে ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো বাড়ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, ধর্ষণের এই ঘটনাগুলোকে কেবল নারী ইস্যু হিসেবে না দেখে তাকে অপরাধ হিসেবে দেখা প্রয়োজন। রাজনৈতিকভাবে যতক্ষণ না সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়; সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জোরালোভাবে সাড়া না দেয়, ততক্ষণ পর্যন্ত এই জায়গার পরিবর্তন হবে না।
গতকাল সোমবার সকালে মহিলা পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে ‘ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি ও ভয়াবহতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে’ বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম বলেন, সমাজে যখন অস্থিরতা বাড়ে তখন ধর্ষণের মতো ঘটনা বৃদ্ধি পায়। তিনি আরো বলেন, দেশব্যাপী ধর্ষণের ভয়াবহতা প্রতিরোধের জন্য নারী মানবাধিকার সংগঠন, সরকার, প্রশাসন বহুমাত্রিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু তারপরও এর ধরন এবং ভয়াবহতার মাত্রা ক্রমাগত বেড়ে চলছে। গণমাধ্যম এই সমস্যাটি আরো জোরালোভাবে তুলে ধরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরো বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় ক্রমাগত জমে থাকা এই মামলাগুলো, শাস্তির অভাব আরো ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করে। ধর্ষণের পাশবিকতা ও বর্বরতার ঘটনা এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যা থেকে ২২ মাসের শিশুও এখন রক্ষা পায় না। বাংলাদেশে ধর্ষণ বিষয়ক আইনের সংস্কার করতে হবে। যে অপরাধী তাকে প্রমাণ করতে হবে যে সে অপরাধী নয়, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে এই আইন হয়েছে। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে আরো বেশি শক্তিশালী করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ধর্ষণ ও ধর্ষণের ঘটনার বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা বলেন, অপতত্পরতা চলছে নারীকে আবারো ঘরে পাঠানোর জন্যে। যার কারণে এই ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে। তারা আরো বলেন, ধর্ষণকে ইস্যু হিসেবে না দেখে তাকে অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত। আমাদের মূল্যবোধকে নাড়া দিতে হবে।
সভায় লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠনের লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের পরিচালক অ্যাড মাকছুদা আক্তার। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি নাহার আহমেদ, মাখদুমা নার্গিস রত্না; সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক সাহানা কবির, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক বুলা ওসমান, প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক দিল মনোয়ারা মনু প্রমুখ।