নবম ওয়েজবোর্ড দিতে নারাজ অর্থমন্ত্রী
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-০৮ ১৮:২৮:১২
সাংবাদিকদের নবম ওয়েজবোর্ড দেয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
তিনি বলেন, এখন দাবি করা হচ্ছে, ঢাকাতে ৫ শ’র অধিক গণমাধ্যম আছে তা ভোগাস। আমরা খবর নিয়ে দেখেছি, মাত্র ১৫ থেকে ২০টি গণমাধ্যম আছে যেখানে শুধু সাংবাদিকরা কাজ করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা শেষ করে কেন গণমাধ্যমে ৮ হাজার টাকার চাকরি করবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মুহিত বলেন, আপনারা হয় তো জানেন না, বহু মাস্টার্স পাস যুবক সচিবালয়ে পিয়নের চাকরি করে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা স্যালারি স্কেল দেই খুব এক্সট্রিমলি লো, লাস্ট ইয়ারে উই হ্যাভ গিভেন দ্য সেলারি স্কেল। আমি সর্বশেষ যে তথ্য পেয়েছি তাতে মনে হয়েছে, ওয়েজবোর্ড নট নেসেসেরি।
একজন সরকারি চাকরিজীবী চাকরি শেষে পেনশন পায় সাংবাদিকরা তো পায় না এক সাংবাদিকের এমন কথা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, কেন? সাংবাদিকদের জন্য প্রফিডেন্ট ফান্ড আছে।
টেলিভিশনগুলো কোনো ওয়েজবোর্ড দেয় না, এমনকি কম বেতনে তারা সাংবাদিকদের কাজে লাগায়, সাংবাদিকদের এমন কথা বললে মন্ত্রী বলেন, ইউর স্যালারি ইজ হাইয়ার দ্যান গভমেন্টস স্যালারি স্ট্রাকচার।
আপনি এই বিষয়ে ভুল বলছেন, এই প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা একজন বা দুইজন দায়িত্ব নেন, আমাকে আপনাদের পাঁচটি গ্রেডের স্টেটমেন্ট দেন।
এ সময় সাংবাদিকরা পাল্টা প্রশ্নে বলেন, কোনো টেলিভিশনেই ওয়েজবোর্ড নেই, তাহলে আমরা দিব কিভাবে?
মন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বলেন, ঢাকায় কয়টা কাগজ আছে? ২০১টি দৈনিক পত্রিকা আছে এমন কথা বলতেই মন্ত্রী সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে উচ্চবাক্যে বলেন, ‘রাবিশ রাবিশ রাবিশ’। আমি জানি, বড়জোড় ২০টি হতে পারে। বাকি ৫০০ কতটি ‘অল বোগাস’। ওদের জন্য বেতন স্কেল ঠিক করব? নো, নট এ্যাট অল।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের পরিষ্কার ধারণা হচ্ছে, প্রিন্ট পত্রিকাগুলোর জন্য কোনো ওয়েজবোর্ডের প্রয়োজন নেই।
‘হোয়াট অ্যাবাউট টেলিভিশন’- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেইম (একই)।
যদি টেলিভিশনগুলোর জন্য ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করা হয় তাহলে টেলিভিশনগুলো মরে যাবে। দুনিয়ার কোনো খানে (দেশে) এতোগুলো টেলিভিশন আছে? তখন সাংবাদিকরা উচ্চবাক্যে বলে উঠেন, তাহলে এই সবের অনুমোদন দেয় কে? সরকারই তো দেয়। এ সময় সাংবাদিক ও মন্ত্রীর মাঝে বাক-বিতণ্ডা হয়।
এ সময় অর্থমন্ত্রীর পাশে থাকা তথ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে সাংবাদিকরা বলেন, এখানে তথ্যমন্ত্রী আছেন, কোনো অফিস না দেখে এসব টেলিভিশন ও পত্রিকার অনুমোদন দেয়া হয় কেন? তিনি এই বিষয়ে কী বলবেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার জন্য ওয়েজবোর্ড বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আইন তৈরি হয়নি। আমরা যে ওয়েজবোর্ড দিচ্ছি তা হলো খবরের কাগজের জন্য। সেই বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আমরা খবরের কাগজের মালিকদের সঙ্গে বসেছিলাম সমগ্র সংবাদপত্র শিল্পের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার জন্য। আলোচনা হয়েছে, ওয়েজবোর্ড বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।
পরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ওয়োজবোর্ড বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা তথ্য আহরণ করছি। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক তথ্য পাচ্ছি। ৫০০ কাগজ ইজ নট অ্যাকুরেট, এখানে সব চুরি করে।’






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














