উত্তরে পানি কমলেও মধ্যাঞ্চলে বাড়ছে
আপডেট: ২০১৭-০৮-১৮ ০৯:৫৮:০১

উত্তরাঞ্চলে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা ও বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। তবে সিরাজগঞ্জের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। আর অবনতি হয়েছে জয়পুরহাটে। অপরদিকে পানি বাড়ছে মধ্যাঞ্চলে। মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর জেলায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকার চারদিকের ৫টি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকার আশপাশের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে বৃহস্পতিবার বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার ভারতীয় অংশে আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় গড়ে ৩০ সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পেতে পারে। বাংলাদেশ অংশের ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার বিভিন্ন পয়েন্টে আগামী ৭২ ঘণ্টায় হ্রাস অব্যাহত থাকবে। গঙ্গা-পদ্মার পানি বৃদ্ধি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় অব্যাহত থাকলেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে। মেঘনা অববাহিকার নদীর পানি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় হ্রাস পাবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা—এই তিন অববাহিকার মধ্যে গঙ্গার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের উজানের ভারতীয় অংশে এবং মেঘনা অববাহিকার ভারতীয় ও বাংলাদেশ অংশে পানি হ্রাস অব্যাহত আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার ৯০টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। এর মধ্যে ৪০টিতে কমছে আর ২৮টি পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এদিকে, উত্তরে পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসি মানুষের। রাস্তা-ঘাট বিধ্বস্ত হওয়ায় অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে লোকজন বাড়ি ফিরলেও ভাঙা ঘর মেরামত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে তারা। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ত্রাণের জন্য এখনও হাহাকার চলছে। কোনো নৌকা দেখলেই বানভাসি মানুষ ছুটে যাচ্ছে ত্রাণের জন্য। উত্তরে পানি কমলেও বন্যাদুর্গতদের জন্য নতুন আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। নতুন করে বাঁধ ভেঙেও অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে। এখনও বন্ধ আছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগামী ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে, বন্যার পানিতে ডুবে নেত্রকোনা, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাটে শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে কয়েকদিনে বন্যায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৯ জনে।
প্রতিনিধিদের পাঠানো আরও খবর:
ফরিদপুর: পদ্মা নদীর তীর সংলগ্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ১২ ঘণ্টায় পদ্মার পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিপদসীমার ৯২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল, ডিক্রিরচর ও আলিয়াবাদ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে গেছে। নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের গোলডাঙ্গী সড়ক, চরমাধবদিয়ার মোহাম্মদপুর সড়কটি পানিতে ডুবে থাকায় ওই অঞ্চলের মানুষকে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পদ্মা ছাড়াও আড়িয়াল খাঁ, কুমার ও মধুমতি নদীতে পানি বিপদসীমার ওপরে বইছে। ফরিদপুর পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, জেলার তিনটি উপজেলার শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফরিদপুরের এনডিসি পারভেজ মল্লিক জানান, পানি ওঠায় জেলার নিম্নাঞ্চলের ২৯টি স্কুল বন্ধ রয়েছে। এদিকে, সদর ইউনিয়নের ফাজিলখাঁরডাঙ্গী গ্রামে পদ্মার ভাঙন কবলিত ২২টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া।
লালমনিরহাট: জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্টের শেষ নেই। ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। রয়েছে খাদ্য সংকটসহ নানা সমস্যা। কিছু সংখ্যক স্কুলে এখনও পানি থাকায় জেলার ৩২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আগামী ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে, রেলপথ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট-ব্রিজ-কালভার্ট বিধ্বস্ত হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। রেলপথের ভাঙা অংশ সংস্কার না হওয়ায় চার দিন ধরে বুড়িমারী স্থলবন্দরের সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ আছে। বন্যার্তদের দুর্ভোগ লাঘবে সেনাবাহিনীর তিনটি টিম মাঠে কাজ করছে। জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ২৪২ টন চাল, আট লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও ১ হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আরও ১৪০ টন জিআর চাল ও চার লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এসব ত্রাণ বৃহস্পতিবার থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে জেলায় প্রতিদিনই আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি কিছু সামাজিক সংগঠনকেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিতে দেখা গেছে।
জয়পুরহাট: জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তুলশীগঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহস্পতিবার বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তুলশীগঙ্গার মাদারতলী ঘাট এলাকায় বাঁধ ভেঙে আক্কেলপুর উপজেলার প্রধান সড়কসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। জেলার ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন আক্কেলপুর ও ক্ষেতলাল উপজেলার বন্যাদুর্গতদের মাঝে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা বিতরণ করেন। আর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫টি উপজেলায় ৪০ টন চাল ও ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা খুবই অপ্রতুল বলে অভিযোগ উঠেছে। গো-খাদ্যের ব্যাপক সংকট দেখা দেওয়ায় কৃষকরা পড়েছেন আরও বিপাকে। এদিকে, বন্যার কারণে পাঁচবিবির বিদ্দি গ্রামের বিলাসী রানী বর্মণ নামের এক গৃহবধূ দেয়াল চাপায় নিহত হয়েছেন।
নওগাঁ: সদর উপজেলার শহরতলির ইকরতারায় বৃহস্পতিবার ভোরে ছোট যমুনা নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। একই অবস্থা পত্নীতলা উপজেলা সদর নজিপরে আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের। গতকাল পর্যন্ত জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ৯টির বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নওগাঁ সদর, পত্নীতলা, রানীনগর, মান্দা ও আত্রাই উপজেলার ২০টি স্থানে আত্রাই ও ছোট যমুনার বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও বেড়ি বাঁধ ভেঙে গিয়ে সেসব অঞ্চল প্লাবিত হয়। জেলা সদরের সঙ্গে আত্রাই উপজেলার ও নাটোরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যার পানিতে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। কয়েক হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।
শেরপুর: সদর উপজেলার চরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এগুলো হলো—চরপক্ষীমারী, কামারের চর, চরমোচারিয়া, চরশেরপুর ও বলাইয়ের চর। পুরনো ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গতকাল ভোর থেকে শেরপুর-জামালপুর সড়কে বাস-ট্রাকসহ ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে সওজ। এ সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জামালপুর হয়ে উত্তরবঙ্গে চলাচলকারী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৪৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। প্রশাসন সবকিছু নজরে রেখেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে হুইপ আতিউর রহমান আতিক চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করেছেন।
নাটোর: আত্রাই নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সিংড়া পৌর এলাকাসহ পাঁচটি ইউনয়নের বাইরে নতুন কোনো এলাকা প্লাবিত হয়নি। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যাকবলিত পাঁচটি ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭২টি পরিবারের জন্য ৩০ টন চাল ও নগদ দুই লাখ টাকা চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে ১০ টন চাল ও নগদ ২০ হাজার টাকা। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ মেলেনি। এদিকে, শুক্রবার বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক।
নেত্রকোনা: জেলার বারহাট্টা, সদর উপজেলা ও পূর্বধলায় কংশ নদ, কলমাকান্দার উদ্ধাখালী, মোহনগঞ্জের ধনু নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ড. মুশফিকুর রহমান বলেন, জেলায় প্রায় সোয়া লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৫ টন চাল ও দুই লাখ টাকা। খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ জানান, উপজেলায় এক হাজার ৩৬৩টি পরিবারের ৩৯২টি ঘরবাড়ি ক্ষতি হয়েছে। ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ১৭ কিলোমিটার রাস্তা ভেঙে গেছে। এদিকে, গত দু’দিনে পানিতে ডুবে মারা গেছে দুই বৃদ্ধসহ তিনজন। তারা হলেন—কলমাকান্দার বীরসিধলী গ্রামের আবদুল আজিজ (৭৮), একই উপজেলার চকপাড়া গ্রামের শতবর্ষী মকবুল হোসেন ও মণ্ডলেরগাতি গ্রামের জামাল মিয়া।
দিনাজপুর: জেলার বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে প্রধান তিনটি নদীর পানি বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ বাড়ি ফিরে বসতঘর মেরামতের কাজ শুরু করেছে। বন্যার ফলে দিনাজপুরে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান। তিনি জানান, বুধবার নিখোঁজ তিনজনের লাশ বৃহস্পতিবার উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলেন—পার্বতীপুর উপজেলার নামাপাড়া গ্রামের আতাবুর রহমান (৬০), কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর বাধপুর গ্রামের মৌ (৬০) ও বীরগঞ্জ উপজেলার বলরামপুর গ্রামের হাসান আলী (৫৮)।
সিরাজগঞ্জ: চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সব নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় গুমানী, আত্রাই, গুড়, করতোয়া, বড়াল, ভদ্রাবতী, চিকনাই, বানগঙ্গা, বারনই, তেলকুপি, চেচুয়ার নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলনবিলের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়াসহ আশপাশের জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে রোপা আমনসহ সবজি ক্ষেত। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। পানি উঠায় উল্লাপাড়ার ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এদিকে, উপজেলার বাখুঁয়া গ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে ফাহিম হোসেন (২) নামে এক শিশু মারা গেছে। সে এই গ্রামের আলামিন হোসেনের ছেলে।
শিবচর (মাদারীপুর): চরাঞ্চল কাঁঠালবাড়ীর জমাদ্দার কান্দি এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোরে একটি বাঁধ ভেঙে দুই শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। কৃষক পরিবারগুলো গবাদিপশু নিয়ে মারাত্মক বিপাকে পড়েছে। দুপুরে বন্দর খোলা ইউনিয়নের কাজীর সুরা এলাকার একটি কাঁচা রাস্তা ভেঙে খানকান্দি ও মোড়লকান্দি নামের দুটি গ্রামে শত শত পরিবারের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। এদিকে, পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের মাদবরচর ও বন্দরখোলার হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান মিঞা বলেন, এরই মধ্যে নদীভাঙনে আক্রান্ত একটি মাদ্রাসা ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি স্কুল ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী): বুধবার রাতে উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের আঞ্চলিক পাকা সড়কের পূর্ব তেনাপচা এলাকায় পানির প্রবল চাপে ভেঙে গেছে। পানির তোড়ে সড়ক সংলগ্ন আ. রাজ্জাক মোল্যার বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। এখান দিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় দেবগ্রাম ইউনিয়নের অবশিষ্ট এলাকাও বন্যা দুর্গত হয়ে পড়েছে। পানি প্রবেশ করায় পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। এদিকে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।
ফুলছড়ি (গাইবান্ধা): ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে থাকলেও তিস্তার পানি বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ফুলছড়িসহ জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দ্বিতীয় দফা বন্যায় গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। আর পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন দুই লাখেরও বেশি মানুষ।
চিলমারী (কুড়িগ্রাম): বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও পানিবন্দি রয়েছে ২৭ হাজার ৩০২ পরিবার। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমতে শুরু করলেও উপজেলার দক্ষিণ ওয়ারী এলাকায় ডান তীর রক্ষা প্রকল্পে আবার ধস দেখা দিয়েছে। এতে সকালে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজরুল ইসলামের বাড়িটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এ ছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে চিলমারী রক্ষার পাউবো বাঁধটি।
কাহালু (বগুড়া): উপজেলার সীমান্ত এলাকার চারটি পয়েন্টে বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে বন্যা। এতে বেশ কিছু ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। অন্যদিকে দুর্গাপুর ইউনিয়নের বড় পিঁপড়ার ঘন এলাকায় বাঁধ ভেঙে বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন মাঠের আমন ধান। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














