জনদৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরানোর কৌশল নিয়েছে সরকার : মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-১৯ ১৭:২৩:০৭


Fakhrulক্ষমতাসীনরা ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণের মূল বিষয় থেকে জনদৃষ্টি ভিন্ন দিকে ফেরানোর কৌশল নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বিএনপি নীরব হয়ে গেছে- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এরকম বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা হচ্ছে আওয়ামী লীগের সহজাত কৌশল। তারা এই কৌশলের মাধ্যমে মূল বিষয় থেকে জনমতকে অন্যদিকে নেয়ার চেষ্টা করে। এজন্য তারা উল্টো-পাল্টা কথা বলছে।

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা রায় সম্পর্কে বলেছি, পর্যবেক্ষণে বর্তমান রাজনীতি সম্পর্কে যে কথাগুলো আছে, সে সম্পর্কে বলেছি। তিনি সুপ্রিম কোর্টের সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণে জিয়াউর রহমনের ক্ষমতা দখল নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এ বক্তব্যের প্রতি ইংগিত করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন যদি অবৈধ হয়ে থাকে, তা হলে আওয়ামী লীগও অবৈধ। কারণ তার সরকারের সময় তার বিধিমালা অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন করেছিল। পরবর্তীকালে সংসদ নির্বাচন, পরবর্তী রাজনীতি কিন্তু তার ওপর দিয়ে চলেছে। আমরা বলতে চাই, বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসা অবৈধ হতে পারে না, মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া অবৈধ হতে পারে না, সাংবাদিকদের মুক্ত করে দেয়া ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দেয়া অবৈধ হতে পারে না।

রায় পরিবর্তনে প্রধান বিচারপতির ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাদের কর্মকাণ্ডে সব দেশ ও জাতি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তারা বিচার বিভাগের যে স্বাধীনতা সেটাকে সম্পূর্ণভাবে ধবংস করতে চায়, রাষ্ট্রের স্তম্ভগুলোকে ধ্বংস করতে চায়। আসলে তারা এদেশের যে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ তাকে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করে একদলীয় শাসন আবার তারা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

আজ শনিবার সকালে শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব বলেন।

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে সংগঠনটির সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলসহ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।

এ সময়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আমানউল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরফত আলী সপু, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, যুব দলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের গোলাম সরোয়ার, ইয়াসিন আলী, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাদরেজ জামান, মহানগর দক্ষিণের এস এম জিলানী, নজরুল ইসলাম, রফিক হাওলাদার, উত্তরের ফখরুল ইসলাম রবিন, গাজী রেজওয়ান উল হোসেন রিয়াজ প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে শহীদ জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের চলমান সংলাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সংলাপের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই বলেছেন, এই সংলাপ আমরা শুনব, আমরা তাদের কথা শুনব। আমরা কোনো সংলাপ করছি না। সুতরাং এটাকে সংলাপ বলাই যাবে না, উনি শুনবেন। তারপরেই উনি সিদ্ধান্ত নেবেন। এজন্য আমরা বলে এসেছি প্রধান নির্বাচন কমিশনার দল-নিরপেক্ষ নন, তার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজ কী? তাদের কাজ কী শুধুমাত্র সরকার যা চাইবে, সেভাবে নির্বাচন করা, নিশ্চয় নয়। সংবিধানে যে কথা বলা আছে, সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটা সুন্দর পরিবেশে ভোটারদের ভোট প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানে নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয় সবাই বলছেন। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের অধীনে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সব দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসা। এটা আমার কথা নয়, আজকের পত্রিকায় দেখবেন, দেশের বিভিন্ন সূধীজন, বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক দলগুলো বলছেন নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনকালীন সময়ে ‘নিরপেক্ষ সরকার’ না থাকলে নির্বাচন কোনোভাবে সুষ্ঠু হবে না।