যুদ্ধাবস্থায় আমেরিকা-চীন, ম্যানিলাকে বেইজিংয়ের ধমক

প্রকাশ: ২০১৫-১০-৩০ ২২:২৬:৪৪

China-USAআমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে কাজ হয়নি। দক্ষিণ চীন সাগর থেকে যুদ্ধজাহাজ এখনই সরাচ্ছে না পেন্টাগন। তাই ফিলিপাইনকে এবার কড়া সতর্কবার্তা পাঠাল বেইজিং। দক্ষিণ চীন সাগরে অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইতে চীন-ফিলিপাইন দ্বন্দ্ব ঘিরেই ঘনিয়েছে যুদ্ধের মেঘ। তাই বেইজিংয়ের হুঁশিয়ারি, চীনের সঙ্গে কথা বলেই সমস্যা মিটিয়ে নিক ফিলিপাইন। না হলে ফল ভাল হবে না।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার বিবৃতি দিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে করা মামলা ফিলিপাইন প্রত্যাহার করে নিক এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখুক। প্রকারান্তরে বেইজিং বলতে চেয়েছে, জলসীমা নিয়ে দু’দেশের বিরোধের বিষয়টি নিয়ে যদি ফিলিপাইন আন্তর্জাতিক মঞ্চে হইচই করা বন্ধ না করে, তা হলে ফল খারাপ হবে। গোটা পরিস্থিতির জন্য ফিলিপাইনকে দায়ী করে চীন বলেছে, ‘‌ফিলিপাইনের প্রচারে থাকার চেষ্টা বেইজিং ও ম্যানিলার মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস নষ্ট করছে। ফিলিপাইনের প্ররোচনায় দু’দেশের সম্পর্ক নজিরবিহীনভাবে তলানিতে পৌঁছেছে।’ কূটনৈতিক রীতিনীতির নিরিখে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বয়ানের এই ভাষা অত্যন্ত কঠোর। সচেতনভাবেই চীন ফিলিপাইনকে এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

 দক্ষিণ চীন সাগরে জলসীমা নিয়ে চীনের সঙ্গে একাধিক দেশের বিরোধ রয়েছে। শুধু ফিলিপাইন নয়- জাপান, ভিয়েতনামের সঙ্গেও জলসীমা নিয়ে চীনের বিবাদ দীর্ঘ দিনের। ফিলিপাইনের কাছাকাছি সমুদ্রে একটি কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে সেখানে নানা সামরিক পরিকাঠামো তৈরি করছে চীন। ফিলিপাইনের দাবি, ওই এলাকা তাদের জলসীমায়। বিষয়টি নিয়ে জাতিসঙ্ঘের ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয় ফিলিপাইন। চীন প্রথম থেকেই ট্রাইব্যুনালকে মানতে চায়নি। তাদের দাবি, নিজেদের জলসীমায় দ্বীপ তৈরি করেছে তারা। কিন্তু, বন্ধু রাষ্ট্র ফিলিপাইনের পাশে দাঁড়াতে আমেরিকা দক্ষিণ চীন সাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে চীনের বিরুদ্ধে সুর চড়ায় ট্রাইব্যুনাল। বেইজিংকে জানানো হয়, বিষয়টির মিমাংসা ট্রাইব্যুনালই করবে। কারণ যেখানে চীন দ্বীপ তৈরি করে সামরিক পরিকাঠামো গড়ছে, তা আদৌ চীনের জলসীমার মধ্যে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের হানাদারি ঘিরে দু’দেশের মধ্যে পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত। এ নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে চীন ও আমেরিকার কথাও হয়েছে। কিন্তু সমস্যা মেটেনি। তাই এবার ফিলিপাইনকেই সরাসরি সতর্কবার্তা।

Print Print