রেশম উৎপাদন ১০০ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১২ ০৯:১৬:১৫
রাজশাহী রেশম কারখানার উৎপাদন ২০২১ সালের মধ্যে ১০০ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপির নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা শুক্রবার কারখানাটিতে চলমান পরীক্ষামূলক রেশম উৎপাদন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। সে সময়ই তাদের বক্তব্যে এ লক্ষ্য নির্ধারণের কথা উঠে আসে।
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম উৎপাদন এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। রেশম কারখানায় চলছে পরীক্ষামূলক পাঁচটি লুম। নিজেদের উৎপাদিত সুতা দিয়েই কারখানায় এখন উৎপাদন হবে খাঁটি রেশম ও গরদের কাপড়। কারখানার কার্যক্রম পরিদর্শন করে এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমিটির সদস্যরা। ২০২১ সালের মধ্যেই কারখানাটি তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, রেশম শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর সুষ্ঠু সমন্বয়, পরিকল্পনা ও তদারকি প্রয়োজন। রেশম বোর্ড এবং রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট একত্রে হলেও সমন্বয়ের জন্য দ্রুত সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, পাট ও রেশমের সমন্বয়ে নতুন কোনো পণ্য তৈরি করা যায় কিনা, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের গবেষণা করতে হবে। সরকারের ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের জন্য তুঁতপাতা ও রেশম কীট আরো উন্নত করতে হবে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন রেশম বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের সিনিয়র সহসভাপতি ফজলে হোসেন বাদশা, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এনামুর রহমান, সাবিনা আক্তার তুহিন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল, তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ১৯৬১ সালে রাজশাহী নগরীর শিরোইল এলাকায় সাড়ে ১৫ বিঘা জমির ওপর স্থাপিত হয় রেশম কারখানা। ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা ঋণ মাথায় নিয়ে ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর বন্ধ হয়ে যায় কারখানাটি। ওই সময় কারখানার ৩০০ শ্রমিক পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়েন। এর প্রায় সাড়ে ১৫ বছর পর গত ২৭ জুলাই পাঁচটি লুম চালু হয় কারখানার। বন্ধের সময় কারখানায় ছিল ৬৩টি লুম। এর মধ্যে ৩৫টি লুমে উৎপাদন চলত। নতুন ২৮ লুম চালুর আগেই বন্ধ হয়ে যায় কারখানার উৎপাদন। বন্ধের আগে কারখানায় রেশম কাপড়ের উৎপাদন ছিল বছরে ১ লাখ ৬ হাজার মিটার। সবকটি লুম চালু হলে বছরে কাপড় উৎপাদন হবে ২ লাখ ৮৭ হাজার মিটার।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














