কারা দিবে কোরবানি, শর্ত কী
ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১৩ ২২:৫৪:৩৩
কোরবানি বলা হয় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন ও তার এবাদতের জন্য পশু জবেহ করা। যা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে জবেহ করা হয় তা হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। মালিকে নেসাব ব্যক্তিগণ ঈদের দিন এবং এর পরের ৩ দিন এই কোরবানি করতে পারেন।
যাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব এবং ওয়াজিব নাঃ
১। দশই যিলহজ্জের ফজর থেকে বারই জিলহজ্জের সন্ধা পর্যন্ত আর্থাৎ কোরবানীর দিন গুলোতে যার উপর ফেতরা দেওয়া ওয়াজীব তার উপরই
কোরবানি করা ওয়াজিব।
২। মুসাফিরের উপর কোরবানী ওয়াজিব নয়।
৩। কোরবানী ওয়াজিব না হলেও নফল কোরবানী করলে কোরবানীর ছওয়াব পাওয়া যাবে।
৪। কুরবানী শুধু নিজ পক্ষ থেকে
ওয়াজিব হয়। মা বাবা সন্তানাদি এমনকি স্ত্রীর পক্ষ থেকেও কুরবানী ওয়াজিব নয়।যদি তাদের পক্ষ থেকে করা হয় তবে নফল
কুরবানী হবে।
৫। যার উপর কুরবানী ওয়াজীব নয় সে যদি কোরবানীর নিয়তে পশু ক্রয় করে তবে তার উপর ঐ পশু কোরবানী করা ওয়াজিব।
৬। যার উপর কোরবানি ওয়াজিব সে কোরবানী না করলে কোরবানির দিন চলে যাওয়ার পর একটি বকরির মূল্য সদকা করা ওয়াজিব।
কোরবানির শর্তাবলি:
পশু কোরবানি:
এমন পশু দ্বারা কোরবানি দিতে হবে যা শরিয়ত নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেগুলো হল উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া,দুম্বা।
পশুর বয়স:
শরিয়তের দৃষ্টিতে কোরবানির পশুর বয়সের দিকটা খেয়াল রাখা জরুরি। উট পাঁচ বছরের হতে হবে। গরু বা মহিষ দু বছরের হতে হবে। ছাগল, ভেড়া, দুম্বা হতে হবে এক বছর বয়সের।
দোষ-ত্রুটি মুক্ত পশু:
কোরবানির পশু যাবতীয় দোষ-ত্রুটি মুক্ত হতে হবে।
মালিকানা শর্ত:
যে পশুটি কোরবানি করা হবে তার উপর কোরবানি দাতার পূর্ণ মালিকানা সত্ত্ব থাকতে হবে। বন্ধকি পশু, কর্জ করা পশু বা পথে পাওয়া পশু দ্বারা কোরবানি আদায় হবে না।
কোরবানির দিনের করণীয়:
১। ঈদের সালাত আদায় করা।
২। এর জন্য সুগন্ধি ব্যবহার।
৩। পরিচ্ছন্নতা অর্জন।
৪। সুন্দর পোশাক পরিধান করা।
৫। তাকবীর পাঠ করা।
৬। কোরবানির পশু জবেহ করা ও তার গোশত আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা।
৭। এ সকল কাজের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন ও সন্তুষ্টি অন্বেষণের চেষ্টা করা।
৮। এ দিনটাকে শুধু খেলা-ধুলা, বিনোদন ও পাপাচারের দিনে পরিণত করা কোন ভাবেই ঠিক নয়।
পবিত্র কোরআন হাদিসে কোরবানির ফজিলত বিশেষভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রিয় নবীর জীবন সঙ্গিনী হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, আদম সন্তান কোরবানির দিন যত নেক আমল করে তার মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হচ্ছে (পশু কোরবানির মাধ্যমে) রক্ত প্রবাহিত করা। কিয়ামতের দিন কোরবানির পশু (জীবিত হয়ে) তার শিং, খুর এবং পশম সহকারে উঠবে। কোরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর দরবারে তা কবুল হয়ে যায়।
তাই নিয়ম ও শর্ত মেনে পশু কোরবানি করা উচিত সকলের।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














