কোরবানির পশুর হাটে চলছে জোর প্রস্তুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১৪ ১১:৫৪:৫৯
নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট বসানোর জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইজারাদাররা। চলছে বাঁশ-খুঁটি পুঁতে খোয়াড় তৈরির কাজ। কয়েকটি হাটে পশু উঠতেও শুরু করেছে। যদিও ক্রেতা নেই। তবে রাজধানীর একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট গাবতলীতে পশু আমদানি অনেক বেড়েছে।
সোমবার কয়েকটি পশুহাট ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পশুহাট বানাতে। রহমতগঞ্জ খেলার মাঠে দেখা গেল, বিক্রির জন্য পশুও উঠেছে। কোনো কোনো হাটে খোয়াড় তৈরির কাজও শেষ হয়েছে। বাকি স্থানে চলছে বাঁশ দিয়ে খাঁচা তৈরির কাজ।
হাটের ইজারাদার রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির সহসভাপতি হাজী শফি মাহমুদ বলেন, এখনও পশু ওঠা শুরু হয়নি। অবশ্য কয়েকজনের নিজস্ব খামার থেকে কিছু পশু এনে রাখা হয়েছে। তবে ক্রেতাদের আনাগোনা এখনও শুরু হয়নি। তিনি জানান, ১৬ আগস্ট থেকে হাটে পশু আমদানি পুরোদমে শুরু হবে। এখানে যে হাট বসবে, সেটা জানাতেই পশুগুলো এনে রাখা হয়েছে। কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধ পর্যন্ত বিস্তৃত হাটে গিয়ে দেখা যায়, খাঁচা তৈরির কাজ চলছে। পুরো এলাকা মাটি-বালু ফেলে সমতল করা হচ্ছে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে পশু রাখার উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। তবে পশু এখনও হাটে তোলা হয়নি।
হাটের ইজারাদার মো. আবুল হোসেন সরকার জানান, সিটি করপোরেশন ১৮ আগস্ট থেকে হাট বসার অনুমতি দিয়েছে। তাই আগেভাগেই পশু আনছেন না তারা। হাটকে পশু আমদানির উপযোগী করতে আরও সময় লাগবে।
একাধিক ইজারাদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যাপারিরা এখনও রাজধানীতে ব্যাপক হারে পশু আমদানি শুরু করেননি। যেসব পশু আসছে, সেগুলো গাবতলী পশুহাটে এনে রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া রাজধানী লাগোয়া কিছু এলাকায়ও তারা পশু রেখেছেন। পশু ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এবার পর্যাপ্ত পশু মজুদ থাকার কথা বলা হলেও ভারতীয় গরু না এলে পশুর দাম অনেক বেড়ে যাবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এটাই হবে শেষ ঈদুল আজহা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগ্রহীরা ভোটারদের দৃষ্টি কাড়তে এবার বেশি সংখ্যক পশু কোরবানির চেষ্টা করবেন। মূলত এবারের ঈদুল আজহা হবে রাজনৈতিক। কাজেই পশুর চাহিদা অনেক বাড়তে পারে। বাড়তে পারে দামও।
প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজধানীতে পশুহাট বসে যাওয়ার উদাহরণ রয়েছে। ঈদের আগের কয়েক দিনে হাটের গণ্ডি নির্ধারিত এলাকা ছাড়িয়ে যায়। গতকাল একাধিক হাটে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত সীমার মধ্যে খাঁচা তৈরির কাজ চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত এ গণ্ডি ঠিক থাকবে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ প্রতিবারই হাটের আশপাশের রাস্তায়ও ছড়িয়ে পড়ে পশুহাট। অবশ্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই হাট সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। তা না হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুই সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, এবার ১৮ আগস্ট থেকে হাট বসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ইজারাদারদের। ঈদের পর আরও দু’দিন হাট বসবে। এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবে ১৩টি পশুহাট। উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবে সাতটি।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














