কারিগরি সহায়তার জন্য পুল গঠনের পরামর্শ শিল্পমন্ত্রীর
ডেস্ক আপডেট: ২০১৮-০৮-১৫ ০৭:২৭:৫২
চাহিদার তুলনায় দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের অপর্যাপ্ততা শিল্প খাতের জন্য একটি বড় সমস্যা। প্রকৌশল, রাসায়নিক ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে দক্ষ কর্মী দেশে না থাকায় অনেক সময় বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আনতে হয়। এক্ষেত্রে তাদের বেতন বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়।
এ সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) থেকে অবসরে যাওয়া অভিজ্ঞ প্রকৌশলী, রসায়নবিদ ও প্রযুক্তিবিদদের নিয়ে একটি ‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অ্যাসিস্ট্যান্স সার্ভিস (ওএমএএস)’ পুল গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ পরামর্শ দেন। কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) সহযোগিতায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (টিআইসিআই) আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
আমির হোসেন আমু বলেন, ওএমএএস পুলের সদস্যরা বিসিআইসিসহ দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কারিগরি সেবা দিতে পারবে। ফলে বিদেশী বিশেষজ্ঞের পরিবর্তে দেশেই সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের কারিগরি সেবা পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে দেশের শিল্প খাত দ্রুত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জ্ঞানভিত্তিক শিল্পায়নের অভিযাত্রা জোরদারের জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ কারিগরি জনবলের বিকল্প নেই উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আর কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ হচ্ছে অর্থনীতির মেরুদণ্ড। দক্ষ জনশক্তির ওপর দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শিল্পায়ন ও রেমিট্যান্সপ্রবাহ নির্ভর করে। উন্নত দেশগুলোয় ৬০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় দীক্ষিত হলেও বাংলাদেশে এ হার এখনো ১৫ শতাংশের নিচে। দেশের শিল্প-কারখানাগুলোয় দক্ষ টেকনিশিয়ান ও প্রকৌশলীর চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যেই সরকার টিআইসিআই স্থাপন করেছে।
শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, টিআইসিআইয়ে প্রশিক্ষিত জনবল প্রথম থেকেই রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়েও বিসিআইসির আওতাধীন সার কারখানাগুলো সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। দেশে সুষ্ঠু সার ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানায় উৎপাদনের চাকা সচল রাখতে এ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে শিল্প খাতে বিশেষায়িত কারিগরি সেবার চাহিদা পাল্টে যাচ্ছে। এ পরিবর্তিত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতায় বর্তমান সরকার টিআইসিআইয়ের আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
বিসিআইসির চেয়ারম্যান শাহ্ মো. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খান, শিল্প সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ ও কোরিয়া দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ডং-জুন লি। এছাড়া কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জু হাং-গু, বিসিআইসির পরিচালক মোহাম্মদ শাহিন কামাল, টিআইসিআইয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক মো. এনায়েত আলী ও বর্তমান নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী অমল কান্তি বড়ুয়া আলোচনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহের বিষয়টি জড়িত। সুষ্ঠু সার ব্যবস্থাপনার স্বার্থে সার কারখানাগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনের তাগিদে বাংলাদেশকে অনেক ধরনের পণ্য আমদানি করতে হয়। তবে সার উৎপাদনে এ দেশের সক্ষমতা বিশ্বমানের। আমদানির মাধ্যমে কোনোভাবেই দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। খাদ্য উৎপাদনের চলমান ধারা অব্যাহত রাখার জন্য বক্তারা টিআইসিআইয়ের মতো কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেন।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














