এলএনজি সরবরাহ শুরু আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১৬ ০৮:১৪:৩১


আমদানির প্রায় চার মাস পর অবশেষে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ-সংক্রান্ত জটিলতা দূর হচ্ছে। সাগরের তলদেশের পাইপলাইনের ত্রুটি মেরামত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। এখন এলএনজিকে প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তর করে পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরু হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সরবরাহ শুরু হবে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ২৪ এপ্রিল এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালটি (এফএসআরইউ) কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে বাংলাদেশে আসে। এরপর ১০ মে প্রথম দফায় এলএনজি সরবরাহের দিন ঠিক করা হয়। এরপর ২৬ মে দ্বিতীয় দফায় আরও একবার এলএনজি সরবরাহের তারিখ ঘোষিত হয়। কিন্তু পাইপলাইনে ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হয়নি। এরপর ৬ থেকে ১২ জুনের মধ্যে যে কোনো একদিন এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এরপর ৪ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সাগরের তলদেশের পাইপলাইনের ত্রুটি দূর না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।

সূত্র জানিয়েছে, সাগরে ভাসমান টার্মিনালের অবস্থান থেকে সাড়ে চার কিলোমিটার সাগরের তলদেশের পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস স্থলভাগে সরকারি কোম্পানি জিটিসিএলের পাইপলাইনে আসবে। মূল সমস্যাটি এই সাগরের পাইপলাইনে। আরপিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান জানান, সাগরে পানির ২০ মিটার মাটির নিচে দিয়ে পাইপলাইনটি বসানো হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় এক্সিলারেটের ডুবুরি দল ঠিক মতো কাজ করতে পারছিল না। তাই ত্রুটি সারাতে সময় লেগেছে।

এলএনজি প্রকল্পের দায়িত্বে নিয়োজিত আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, রোববার থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। গ্যাস আনোয়ারা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এখন ধাপে ধাপে চাপ বাড়িয়ে পাইপলাইন ও সংশ্নিষ্ট স্টেশনগুলোর সক্ষমতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে এক্সিলারেটের সূচি অনুসারে ১৬ আগস্টের মধ্যে পুরো পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে।

মহেশখালীর জিটিসিএলের স্টেশন থেকে ৯১ কিলোমিটার পাইপলাইন দিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে এই গ্যাস যোগ হবে। টার্মিনালটি থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করার কথা। ১৫ বছরের চুক্তির আওতায় এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন করে এই গ্যাস সরবরাহ করবে এক্সিলারেট এনার্জি। এলএনজি আমদানির দায়িত্ব পেট্রোবাংলার। প্রাথমিক অবস্থায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস নেওয়া হবে। অক্টোবরের পর নতুন আরেকটি পাইপলাইন বসলে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে।

প্রতিদিন ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে পেট্রোবাংলা। চাহিদা ৪১০ কোটি ঘনফুট। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গ্যাসের সংকট দূর করতে সরকার এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেয়। আগামী বছরের শুরুর দিকে সামিট গ্রুপ ৫০ কোটি ঘনফুট ক্ষমতার এলএনজি টার্মিনাল চালু করবে বলে জানিয়েছে। তখন দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট আমদানি করা গ্যাস পাওয়া যাবে।

এ প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহের জন্য যাবতীয় সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি কিছুটা দেখা দিলেও এখন সব পাইপলাইনই কাজ করছে। ভাসমান টার্মিনালের ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরানোর পরীক্ষাও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। টার্মিনালের সঙ্গে গ্যাসবাহী জাহাজের পাইপের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কমিশনিং প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। তাই সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ১৬ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারব।’