চট্টগ্রামে চামড়া সংগ্রহে রেকর্ড, কারসাজিতে দাম বাড়ানোর অভিযোগ

ডেস্ক আপডেট: ২০১৮-০৮-২৩ ১১:৩৯:০৪


কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহের ক্ষেত্রে এবার রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর আড়তগুলোতে।
গরুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ৫ লাখ পিস। প্রথমদিনেই লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি প্রায় ৫ লাখ চামড়া সংগ্রহ করেছেন আড়তদাররা। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও চামড়া সংগ্রহের ক্ষেত্রে এটা রেকর্ড বলছেন আড়তদাররা।

এদিকে বিভিন্ন কারসাজির কারণে বাড়তি দামে কাঁচা চামড়া কিনতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রামের আড়তদাররা।

গত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামে চামড়া সংগ্রহের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল। গত বছর ৪ লাখ চামড়া সংগ্রহের টার্গেট করে আরও ৮০ হাজার পিস বাড়তি সংগ্রহ হয়েছিল। সেই হিসেবে এবার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো সাড়ে ৫ লাখ পিস।

কোরবানির পর বুধবার (২২ আগস্ট) সকাল থেকেই পাড়ায় পাড়ায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা কাঁচা চামড়া সংগ্রহ শুরু করেন। সন্ধ্যার পর থেকে সেগুলো যেতে শুরু করে নগরীর আতুরার ডিপোর আড়তে। রাতভর চামড়া সংগ্রহ করেন আড়তদাররা।

চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম বলেন, আতুরার ডিপোতে সকাল পর্যন্ত তিন লাখের মতো চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। আরও প্রায় দুই লাখ চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্পটে আছে। অনেকে নিজস্ব ডিপোতে কাঁচা চামড়ায় লবণ দেন। সব চামড়া আতুরার ডিপোতে আসে না।

তবে সাড়ে পাঁচ লাখ কাঁচা চামড়া সংগ্রহের টার্গেট পূরণ হবেই বলে আশাবাদী চট্টগ্রামের শীর্ষ আড়তদার মুসলিম।

এদিকে বিগত বছরের মতো এবারও চামড়ার দর নির্ধারণ করে দেয় সরকার। চট্টগ্রামের বাইরে লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা। সরকারি দরের কথা মাথায় রেখে কাঁচা চামড়া কেনার জন্য ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা দর নির্ধারণ করেছিলেন আড়তদারেরা। চট্টগ্রামের ১১২ জন আড়তদারসহ প্রায় দেড়শ ব্যবসায়ী মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

আতুরার ডিপোর আড়তদার মো.জাহাঙ্গীর বলেন, ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় আমরা চামড়া কিনতে পারিনি। আমাদের ৭০০-৮০০ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকায়ও চামড়া কিনতে হয়েছে।

তিনি বলেন, গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যার পর থেকে কাঁচা চামড়ার খুচরা ব্যবসায়ীরা সবাই একযোগে দাম বাড়িয়ে দেয়। অনেকটা সিন্ডিকেটের মতো। সন্ধ্যার পর থেকে কাঁচা চামড়া আসাও কমে যায়। চামড়ার চেয়ে ক্রেতা বেশি। স্বাভাবিকভাবে দাম বেড়ে গেছে।

‘আমাদের কাছে এটা একটা কারসাজি মনে হয়েছে। কারণ আমরা অনেক পাড়া-মহল্লায় রাতেও চামড়া পড়ে থাকতে দেখেছি। ইচ্ছা করেই সেগুলো গতকাল সংগ্রহ করা হয়নি। আজ (বৃহস্পতিবার) দর উঠে যাবার পর সেগুলো কিনে ডিপোতে নেবে খুচরা ব্যবসায়ীরা।’ বলেন জাহাঙ্গীর।

আড়তদার মোহাম্মদ মুসলিম বলেন, কোরবানির অনেক আগে থেকেই আমাদের প্রত্যেককে অন্ত:ত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে রাখতে হয়। সেজন্য আমাদের বাড়তি দামে কাঁচা চামড়া কিনতে হয়েছে। না হলে পুরো টাকাটাই লস যাবে। ১০০০ টাকা দিয়ে চামড়া কিনে লবণ দিয়ে শুকিয়ে কোনোভাবেই সরকারি দরে বিক্রি করা সম্ভব নয়।