পুঁজিবাজারে ব্যক্তি বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ করছে ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৮-০৮-২৭ ০৮:৪০:৪৫


প্রতিবেশী ভারতের কোনো ব্যক্তি বিনিয়োগকারী তার সম্পদের থেকে বেশি পরিমাণ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবেন না। চলতি বছরে এমন একটি বিধি-নিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে দেশটির পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি)। খবরটি দিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম দ্য হিন্দু।

খবরে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার ‘বাজারে যৌক্তিক আচরণ’ সংক্রান্ত এক কমিটির সুপারিশের পর সেবি ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য এমন বিধি-নিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে। ভারতীয় সংসদের নিম্ন পরিষদ লোকসভার সাবেক মহাসচিব ও সাবেক আইন সচিব টিকে ভিস্মনাথান এ কমিটির প্রধান।

পুঁজিবাজারে কারসাজি বন্ধে এ পদক্ষেপ বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সেবি। একই সঙ্গে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ওই সম্পদ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈধ করার অপচেষ্টা বন্ধ করতে এ বিধি-নিষেধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কমিটি তাদের সুপারিশে বলেছে, মূলধনী বাজারে (পুঁজিবাজার) ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা ব্যক্তির নিট সম্পদের বেশি হবে না। কমিটির এ সুপারিশ আমলে নিয়েছে সেবি। চলতি সালেই কমিটির সুপারিশ মেনে বিধি-নিষেধ আরোপ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো ব্যক্তির ধারণ করা মোট সম্পদের আর্থিক মূল্য থেকে দায় বাদ দিয়ে নিট সম্পদের পরিমাণ হিসাব করা হবে।

হিন্দুর খবরে বলা হয়েছে, এ বিধি-নিষেধ আরোপ হলে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের তাদের সম্পদের সনদ ব্রোকারেজ হাউসে জমা দিতে হবে। ব্রোকারেজ হাউসগুলো সনদের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ কত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেবে, তা নির্ধারণ করবে। সেবিও বিষয়টি নজরদারি করবে।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সায়েন্টিফিক রিসার্চের (আইওএসআর) গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের ১৩৩ কোটি মানুষের মধ্যে ২ কোটি ৯০ লাখ ব্যক্তির নিজস্ব বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরাসরি এবং মিউচুয়াল ফান্ড বা পেনশন ফান্ডের অধীনে পরোক্ষভাবে আরও বিনিয়োগ ছিল ৪ কোটি ৪৬ লাখ মানুষ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন।

ভারতের মতো বাংলাদেশেও এমন আইন করা উচিত বলে মনে করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনালের ব্যবসায় অনুষদ বিভাগের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মূসা। তিনি বলেন, এখানে অনেক ব্যক্তির পুঁজিবাজারে মোট বিনিয়োগ অনেক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর থেকেও বেশি। এ বিনিয়োগের সবটাই হয়তো সাদা টাকা নয়। আবার কোনো কোনো ব্যক্তি নিজ নামের বাইরে আত্মীয়স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব কিংবা কর্মচারীদের নামেও বিও অ্যাকাউন্ট করে শেয়ার ব্যবসা করেন। ফলে কাঠামোগত সংস্কার এবং স্বচ্ছতা না এনে এমন বিধান করে ফল মিলবে না বলেও মত দেন তিনি।