গ্রামে ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ ২ বছর বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৮-০৮-২৭ ১৩:৩৩:৪৪


আধুনিক ফ্ল্যাটের মাধ্যমে পরিকল্পিত আবাসনের জন্য পল্লী জনপদ ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে। চার বছরে এর বাস্তবায়ন চিত্র খুবই হতাশাজনক। ২০১৭ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরপর আরও এক বছর সময় দেওয়া হয়। কিন্তু এতেও কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

গত ২০ আগস্ট সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবের ওপর মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সরকারের প্রত্যাশিত ও সৃজনশীল প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে পল্লী জনপদ নির্মাণ প্রকল্প দেশের সাত বিভাগের সাত জেলা- বগুড়া, রংপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, সিলেট, কক্সবাজার ও বরিশালে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চারতলাবিশিষ্ট একেকটি ভবনে ২৭২টি করে ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। সাতটি বিভাগে মোট ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে এক হাজার ৯০৪টি। বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

শুরুতে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৪২৪ কোটি টাকা। নতুন প্রস্তাবে ব্যয় ৫৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৬৫২ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে ফ্ল্যাটের সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ৬১ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও এবার তা বাড়িয়ে ১১৬ কোটি টাকা করা হয়েছে। সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দ ৩৬৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫৩৬ কোটি টাকা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে আরডিএর উপপরিচালক শেখ শাহরিয়ার মোহাম্মদ জানান, পল্লী জনপদে চার ধরনের ফ্ল্যাট থাকবে। ফ্ল্যাটের আকার হবে ৯১৫ বর্গফুট, এক হাজার ৪৫ বর্গফুট, এক হাজার ১৯৭ বর্গফুট ও এক হাজার ৩৯৭ বর্গফুট। প্রতি বর্গফুটের মূল্য ধরা হয়েছে এক হাজার ৬২০ টাকা। ফ্ল্যাট পেতে আগ্রহীদের ৩০ শতাংশ অগ্রিম জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। বাকি ৭০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করতে ১৫ বছর সময় পাওয়া যাবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্রে জানা গেছে, সাতটি বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম ও বরিশালের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং খুলনা ও সিলেটে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য জমি তৈরির কাজ এখনও শুরু হয়নি। গোপালগঞ্জে ২০ শতাংশ, বগুড়ায় ৯০ ও রংপুরে ৮০ শতাংশ কাজ হয়েছে।

আরডিএ সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ব্রিটেনের গ্রামে এ ধরনের মডেল ভিলেজ দেখে তা দেশে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। দেশের মানুষের বাসস্থান, খাবার ও উন্নত জীবনযাপনের ব্যবস্থা করে দিতে একই ধরনের ধারণা আরডিএ বাস্তবায়ন করছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি একান্নবর্তী পরিবারগুলো ভেঙে বাসস্থান ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করছে। এতে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে দ্রুত। প্রতিবছর কৃষিজমি কমছে ১ শতাংশ হারে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ অবস্থায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্পব্যয়ে সমবায়ভিত্তিক বহুতলবিশিষ্ট আবাসিক ‘পল্লী জনপদ’ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। পল্লী জনপদে আধুনিক ফ্ল্যাট ছাড়াও দ্বিতল ভিতবিশিষ্ট গরু, ছাগল, মুরগি ১০টি ডরমিটরিবিশিষ্ট সাতটি শেড নির্মাণ, কমিউনিটিভিত্তিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন এবং সৌর প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা রাখা হবে পল্লী জনপদ ভবনে।

পল্লী জনপদ ভবনে ফ্ল্যাট কিনতে গ্রামের মানুষকে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) সহায়তায় ‘বাংলাদেশ পল্লী আবাসনে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা’ প্রকল্পের আওতায় গ্রামের মানুষকে এ ঋণ দেবে সরকার।