অসৎ ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনও কারণ নেই’
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৮-০৮-২৭ ১৬:১২:০০
সরকারি কাজে নিয়োজিত অসৎ ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘অসৎ ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। কোনও আইনেই দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। যুদ্ধের কৌশলের মতোই কখনও কখনও কৌশলগত কারণেই দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার বা অন্যান্য আইনের প্রয়োগ একটু শিথিল করা হয়। আবার উপযুক্ত সময়ে তা তীব্র করা হয়।’
সোমবার (২৭ আগস্ট) সকালে সেগুনবাগিচার দুদক কার্যালয়ে প্রবেশের সময় মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদিত ‘সরকারি কর্মচারী আইন’ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিষটি এখনও প্রিম্যাচিউরড। কারণ আরও বেশ কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে আইনটি পাশ হবে। প্রতিটি ধাপেই আইনটিকে পর্যক্ষেণের সুযোগ রয়েছে। এসব ধাপেও অনেক সংযোজন-বিয়োজন হয়ে থাকে। তাই এখনই প্রতিক্রিয়া জানানো সমীচীন হবে না। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষায় কোনও আইন হবে না। তবে সৎ কর্মচারীদের সুরক্ষারও প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের তীব্র আকাঙ্ক্ষার কারণেই ঘুষখোর বা দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনা হবে। দুদক ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে কখনোই বসে থাকবে না। সরকার কোনোক্রমেই দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মচারীদের কোনও সুরক্ষা দেবে না, তবে অবশ্যই সৎ কর্মচারীদের সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।’
সাংবাদিকদের ফাঁদ পেতে ঘুষখোর ধরার মামলাগুলোর পরণতির বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘ফাঁদের মামলা চলবে। যে কোনও আইনেই দুদকের দায়িত্ব পালনে কোনও সমস্যা হবে না। ঘুষখোরদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে দুদক আর কখনোই নখ-দন্তহীন প্রচারণায় পা দেবে না। দুর্নীতিবাজরা এই আশায় থাকলে ভুল করবে। দুদক আর কখনোই ওই জমানায় ফিরে যাবে না।’
সরকারি কর্মচারী আইনের কারণে কমিশনের ক্ষমতা খর্ব হবে কিনা প্রশ্ন করা হলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘ক্ষমতা শব্দটিতে আমার আপত্তি রয়েছে। কারণ এটি দায়িত্ব পালনের বিষয়, ক্ষমতার কোনও বিষয় নয়। বিদ্যমান আইন অনুসারে দুদক তার কার্যক্রম পরিচালনায় একটি স্বাধীন সংস্থা। দুদকের এই আইনি স্বাধীনতার কারণেই এর কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্য কোনও সংস্থার অনুমতির প্রয়োজনীয়তা নেই। তাই যতদিন পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়ায় দুদককে পরাধীন করা হচ্ছে না, ততদিন অন্য কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জনগণের ইচ্ছায় যে আইন প্রণীত হবে তা আমাদের সবারই মেনে চলতে হবে।’
প্রসঙ্গত, ২০ আগস্ট মন্ত্রিসভায় সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এই আইনে বলা হয়, দুর্নীতির মামলায় কোনও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করতে হলে সরকার বা তার নিয়োগকর্তার পূর্ব অনুমতি লাগবে। পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে কোনও মামলায় কোনও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হলে কোনও অনুমতি ছাড়াই গ্রেফতার করা যাবে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














