ফের বন্ধ হয়ে গেল বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৮-০৮-২৯ ০৮:২৭:২৭


প্রাপ্ত কয়লার মজুদ শেষ হওয়ায় দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন আবারও বন্ধ হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান জানান, খনি থেকে যে পরিমাণ কয়লা পাওয়া গিয়েছিল তার মজুদ শেষ হওয়ায় চালু হওয়া ইউনিটটি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। কয়লা পাওয়া গেলে আবারও কেন্দ্রের উৎপাদন শুরু করা হবে।

ঈদে অসহনীয় গরমের দুর্ভোগ থেকে কিছুটা রেহাই দিতে ও ঘাটতি মোকাবিলায় তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন বন্ধ থাকলেও খনির অভ্যন্তরে টানেল নির্মাণ করতে প্রতিদিন যে সামান্য পরিমাণ কয়লা উত্তোলন হচ্ছে তা মজুদ করেই ওই দিন কেন্দ্রটি চালু করা হয়।

এর আগে টানা ২৯ দিন বন্ধ থাকার পর গত ২০ আগস্ট দুপুরে চালু করা হয়েছিল বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইউনিটের উৎপাদন। ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রর তিনটি ইউনিট চালু রাখতে দিনে কয়লার প্রয়োজন ৫ হাজার দুইশ মেট্রিক টন। আর ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন যে ইউনিটটি চালু করা হয়েছিল সেটিতে দিনে প্রয়োজন ১২শ মেট্রিক টন কয়লা।

গত ১৬ জুন থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভূ-গর্ভের ১২১০ নং ফেজ কয়লা মজুদ না থাকায় উত্তোলন কাজ শেষ হয়ে যায়। নতুন ফেজে কয়লা উত্তোলন করতে সময় লাগবে প্রায় তিন মাস। এরই মধ্যে অত্র খনির কয়লা দিয়ে পার্শ্ববর্তী ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা খনির ইয়ার্ডে মজুদ না থাকায় নড়েচড়ে বসে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ। বন্ধ হয়ে যায় দেশের একমাত্র কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। হিসেবে দেখা দেয় ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা মজুদের গড়মিল। ঘটনায় গঠন হয় তদন্ত কমিটি।

দফায় দফায় পরিদর্শন ও ছোটাছুটি শুরু হয় পেট্রোবাংলার। এঘটনায় গত ১৯ জুন পার্বতীপুর মডেল থানায় খনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত কাজ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

খনির এই ঘটনায় ঊধ্বর্তন চার জন কর্মকর্তার পদ শূন্য হওয়ায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।