ওষুধ ইউনিট বন্ধে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের ইজিএম ১৪ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০১৮-০৮-২৯ ২৩:১৩:৩৮


বাংলাদেশে ফার্মাসিউটিক্যাল (ওষুধ) ইউনিটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আগামী ১৪ অক্টোবর অতিরিক্ত সাধারণ সভা (ইজিএম) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন।
ইজিএমর তারিখ ও সময় নির্ধারণ করা হলেও কোথায় তা অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক এই কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষকে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন জানিয়েছে, ১৪ অক্টোবর সকাল ১১টায় ইজিএম অনুষ্ঠিত হবে। ইজিএমর স্থান পরবর্তিতে জানানো হবে। এজন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর।
ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন পেতে এ ইজিএম আয়োজন করা হচ্ছে। তবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা আপত্তি জানালেও তা খুব একটা কাজে আসবে না। কারণ কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৮১ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ারই রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে।
এ বিষয়ে গত ২৭ জুলাই আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের পর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নকিবুর রহমান বলেন, ওষুধ ইউনিট বন্ধের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আমরা ইজিএম করবো।
ওই দিন রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম আজিজুল হক বলেন, বাংলাদেশে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের ব্যবসার ৭০ শতাংশই কনজুমার হেলথকেয়ারের। বাকি ৩০ শতাংশ ফার্মাসিউটিক্যালের। ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটের বাণিজ্যিক কর্যক্রম বন্ধ করা হলেও গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের কনজুমার হেলথকেয়ার কার্যক্রম আগের মতোই চলবে।
তিনি বলেন, আমাদের ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিট লোকসানজনক। সব ইউনিট মিলে আমাদের যে মুনাফা হয়, কনজুমার হেলথকেয়ারে মুনাফার পরিমাণ তার থেকেও বেশি। কনজুমার হেলথকেয়ারের মুনাফা থেকে ফার্মাসিউটিক্যালের লোকসান বাদ দিয়ে মোট মুনাফা দেখানো হয়। সে হিসাবে ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিট বন্ধ করে দেয়া হলে সামনে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের মুনাফা বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।
ওই সংবাদ সম্মেলনের আগের দিন ২৬ জুলাই গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের পর্ষদ সভায় লোকসানজনক ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার প্রস্তাব গৃহীত হয়।
পর্ষদের এই সিদ্ধান্তের দু’দিন আগে ২৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ’র চট্টগ্রামের কারখানা বন্ধ করতে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসাবে উৎপাদিত অনেক ওধুষ গুদামজাত থাকার পরও এবং বাজারে ওই ওষুধের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও তা বাজারজাত করা হচ্ছে না। সেই সঙ্গে ওষুধ উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত প্রায় দেড় শতাধিক শ্রমিককে বিনা কাজে বসিয়ে রাখা হয়েছে।
শ্রমিকদের এই অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নকিবুর রহমান বলেন, আমাদের ফার্মাসিউটিক্যালের বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ে রিভিউ চলছিল, যে কারণে উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসা হয়। আর ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হলে তাৎক্ষণিক যাতে বাজারে ওষুধের ঘাটতি না হয় তার জন্য মজুদ করে রাখা হয়।
গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন কতো বছর ধরে লোকসান করছে এবং লোকসানের পরিমাণ কেমন? এমন প্রশ্নের উত্তরে এম আজিজুল হক বলেন, এর কোনো হিসাব আমরা এ মুহূর্তে দিতে পারছি না। আর আমাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটের লাভ-লোকসনের তথ্য আলাদাভাবে দেখানো হয় না।