খাদ্যের পরিবর্তে নগদ অর্থ চেয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ে দীপু মনির চিঠি
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০৬ ০৯:৫১:১৫
কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির ৭ হাজার ১৯১ টন গমের বিপরীতে ২১ কোটি টাকা (বাজার মূল্য অনুযায়ী) যাচ্ছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে। যদিও কাবিখা নীতিমালাবহির্ভূত হওয়ায় খাদ্যের বিপরীতে অর্থ চাওয়ার প্রস্তাব শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করেছিল অর্থ মন্ত্রণালয়।
কিন্তু আদালতের নির্দেশে এ অর্থ ছাড় করতে হচ্ছে। দ্রুত এ অর্থ ছাড় করতে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীকে আধা সরকারি পত্র (ডিও) দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. দীপু মনি।
এ অর্থ ছাড় করা হলে এটিই হবে কাবিখা কর্মসূচিতে নগদ অর্থ দেয়ার প্রথম ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, কাজের বিনিময়ে খাদ্যের পরিবর্তে নগদ অর্থ দেয়ার পক্ষে উচ্চ আদালতের নির্দেশ এটি প্রথম। রায়ের বিষয়টি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখতে বাজেট শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, কাবিখা কর্মসূচির আওতায় গমের বিপরীতে নগদ টাকা দেয়ার হলে একই ধরনের আরও প্রস্তাব আসার সম্ভাবনা থাকবে। সেখানে আদালতের রায়ের রেফারেন্স টানা হতে পারে।
জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড, ইফতেখারুজ্জামান জানান, এ ধরনের কার্যক্রম মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি অত্যন্ত নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। কাবিখার কার্যক্রম নতুন নয়। কিন্তু এ কর্মসূচির মূলনীতি লঙ্ঘন করে প্রাপ্ত সুবিধা টাকায় নেয়া আমি মনে করি একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত। এখানে জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে বলে আমি মনে করি। তারা জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করেন। কল্যাণের সঙ্গে উন্নয়ন সম্পর্কিত। এ ধরনের কার্যক্রমের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও এমপিদের আরও খোলামেলা আলোচনা করে তা নির্ধারণ করা উচিত।
অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো ডিও লেটারে ডা. দীপু মনি বলেন, কাবিখা কর্মসূচির গমের বিপরীতে নগদ টাকা প্রদানের প্রস্তাবটি সানুগ্রহ অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া উচ্চ আদালত এবং সুপ্রিমকোটের আপিল বিভাগ এ প্রস্তাবের পক্ষে রায় দিয়েছেন। ফলে চাঁদপুরের হরিণা ও গৌক্ষুনদীর পাড় নদীভাঙন থেকে দ্রুত রক্ষায় অস্থায়ীভাবে সমাধানে কাবিখার বিপরীতে এ টাকা প্রদানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
জানা গেছে, চাঁদপুর সদর উপজেলায় হরিণা ও গৌক্ষুনদী মৌজায় ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ চলছে।
প্রকল্পগুলো হচ্ছে ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ ও গোলাপ ফুল আশ্রয়ণ প্রকল্প, হরিণা, পদ্মা, গৌক্ষুনদী, শাপলা, ইলশেপার ও কাশফুল আশ্রয়ণ প্রকল্প। এর মধ্যে হরিণা উপজেলায় ২ হাজার মিটার ও গৌক্ষুনদীর ১ হাজার মিটার নদীর পাড় ঝুঁকিতে পড়ে নদীভাঙনের কারণে।
এই ৩ হাজার মিটার নদীর পাড় ভাঙন রক্ষায় প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিন সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছে। নদীভাঙন রোধে সেখানে বালির বস্তার মাধ্যমে ড্যাম্পিং করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিনিধি দলটি।
তবে এক্ষেত্রে কাবিখা কর্মসূচির আওতায় গমের পরিবর্তে বাজার মূল্যে টাকা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। ওই প্রস্তাবে গৌক্ষুনদী উপজেলায় ১ হাজার মিটার নদীর পাড় মেরামতে ব্যয় ধরা হয় ৭ কোটি টাকা।
এক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টন গম ২৯ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা বাজার মূল্য ধরে ২ হাজার ৩৬৯ টন গমের বিপরীতে এ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
একইভাবে হরিণা মৌজায় ২ হাজার মিটার নদীর পাড় মেতামতের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। একই মূল্যে ৪ হাজার ৮২২ টন গমের বিপরীতে এ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
জানা গেছে, গমের বিপরীতে এ টাকা চাওয়ার প্রস্তাবটি আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিচালকের মাধ্যমে পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। পরে এ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী সানুগ্রহ অনুমোদন করেন। এরপর খাদ্যের বিনিময়ে নগদ অর্থ বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দেয়া হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে।
ওই চিঠিতে বলা হয়, চাঁদপুর হরিণা ও গৌক্ষুনদী উপজেলার মেঘনা নদীর বামতীর এবং এই দুই উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্প রক্ষায় ৩ হাজার মিটার এলাকা বালি দিয়ে জিও ব্যাগের মাধ্যমে ডাম্পিং করতে হবে।
এটি বাস্তবায়ন করতে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় ৭ হাজার ১৯১ মেট্রিক টন গমের পরিবর্তে বাজার মূল্য অনুযায়ী ২১ কোটি ২৩ লাখ টাকার প্রয়োজন। এ টাকা বরাদ্দ দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।
সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি পাওয়ার পর এ প্রসঙ্গে মত চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিবকে। তবে টাকা দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব। কিন্তু কাবিখার নীতিমালা খাদ্যের বিপরীতে টাকা প্রদানের নিয়ম না থাকায় প্রস্তাব ফেরত দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয় খাদ্যের বিপরীতে টাকা ছাড় না করায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন (পিটিশন নং-১৩১৯/২০১৮)। পরে আদালত কাবিখার খাদ্যের বিপরীতে নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়ার পক্ষে রায় প্রদান করে।
অর্থ মন্ত্রণালয় এ রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আরেকটি সিভিল পিটিশন দায়ের করে (পিটিশন নং-২৬৩২/২০১৮)। সর্বশেষ ১ আগস্ট সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপিল খারিজ করে রায় প্রদান করেছে।
আদালতের রায়ের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, আদালতের রায় অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনাধীন আছে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














