এলএনজি আমদানিতে অর্থায়ন করবে আইডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১০ ১০:২৮:০৮


জ্বালানি তেলের পাশাপাশি তরলকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানিতেও অর্থায়ন করবে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)। এ ছাড়া বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতেও বিনিয়োগ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি। সংস্থার প্রেসিডেন্ট ড. বন্দর এমএইচ হাজ্জারের সফরের শেষ দিতে রোববার রাজধানীর আইডিবি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন-পরবর্তী এ সংবাদ সম্মেলনে আইডিবির প্রেসিডেন্ট ড. বন্দর এমএইচ হাজ্জার, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আইডিবির প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হায়াত শিনদি এবং ঢাকায় স্থাপিত নতুন কার্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হানি সালিম সোনবল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আইডিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশসহ আইডিবি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার। বাংলাদেশে আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের কারণে এখানে নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু হবে। অর্থায়ন-সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে। এর ফলে আগের চেয়ে দ্রুত সময়ে ঋণ অনুমোদন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হবে। অর্থায়নের আরও গতি বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশ আইডিবির সদস্য হয়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য ২২ বিলিয়ন ডলার সহায়তার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ অর্থায়নে মানসম্মত শিক্ষা, পানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন খাতসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। মোট সহায়তার ৪০ শতাংশ দেওয়া হয়েছে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বেসরকারি খাতের উন্নয়নে।

ড. হাজ্জার বলেন, অবকাঠামো খাতের অনেক বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্য রয়েছে। এ সাফল্যের গল্প আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।

এমএইচ হাজ্জার আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে আইডিবি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর প্রয়োজন ১ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রতি বছর মৌলিক অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে দরকার হবে ৭০০ বিলিয়ন ডলার। সব দাতা সংস্থা মিলে মাত্র ১৪৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার সক্ষমতা রাখে। এই অবস্থায় বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, আইডিবি বেসরকারি খাতকে প্রযুক্তি সহায়তাসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা দেবে। তাদের কোনো আইডিয়া থাকলে সেটা বাস্তবায়ন করা হবে। এই আইডিয়ার সুফল আইডিবির সদস্য দেশগুলোও পাবে। এর ফলে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আইসিডিডিআর’বি, সিরডাপসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। সরকারও এসব প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় আইডিবি বাংলাদেশে তাদের অফিস স্থাপন করছে। এটা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের।

হানি সালিম সোনবল বলেন, বাংলাদেশ আইডিবির সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ। অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও বেসরকারি খাতের উন্নয়নে সংস্থাটি কাজ করছে। জ্বালানি তেলের বাইরে এলএনজি আমদানিতে আইডিবি অর্থায়ন করবে। এ ছাড়া একটি বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন করা হবে। ওষুধ ও খাদ্য, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতকে এগিয়ে নিতে কাজ করবে আইডিবি।