ট্যাক্স আদায়ে হয়রানি বন্ধ করুন: ডিসিসিআই

প্রকাশ: ২০১৫-১১-০৪ ১৩:৪৯:৫৫ আপডেট: ২০১৫-১১-০৬ ১৭:৪৯:০৬

DCCI 2ট্যাক্স আদায়ে চাপ প্রয়োগের পরিবর্তে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বন্ধুসুলভ আচরণ ব্যবসায়ীরা আশা করেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) পরিচালকরা।

বুধবার সকালে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে ডিসিসিআই প্রকাশিত ‘ট্যাক্স গাইড-২০১৫-১৬’ এর মোড়ক উন্মোচনকালে এই মন্তব্য করেন তারা। অনুষ্ঠানে মোড়ক উন্মোচন করেন এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান।

এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিসিসিআই পরিচালকরা বলেন, ট্যাক্স আদায়ে হয়রানি বন্ধ করুন। আমরা ট্যাক্স দিতে রাজি আছি। ট্যাক্স আদায়ে এনবিআরকে বন্ধুসুলভ আচারণ করতে হবে। চাপ প্রয়োগ করলে হবে না।

ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, দেশে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সংখ্যাই বেশি। তারা সবসময় ব্যবসা করতে পারেন না। কিন্তু, এনবিআর প্রতি বছর ট্যাক্স বাড়িয়ে ব্যবসায়ীদের চাপে রাখে; এটা ব্যবসায়ীদের জন্য এক ধরনের চাপ। এমন বিমাতাসুলভ আচরণ থেকে এনবিআরকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, ট্যাক্স গাইড-২০১৫-১৬ এর মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স প্রদানে উৎসাহিত হবেন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, জেলা চেম্বারের সদস্যদের ট্যাক্স বিষয়ে সচেতন করতে, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। কেননা, নতুন উদ্যোক্তরা ট্যাক্স প্রদানে ভয় পান।

ডিসিসিআইয়ের পরিচালক আব্দুস সালাম বলেন, আগের মতো ব্যবসা করতে পারছি না। আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। প্রতি বছর বিনা কারণেই ট্যাক্স বাড়ানো হচ্ছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হঠাৎ করে রাজস্ব আদায়কারী কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র জব্দ করছে। ফলে এক প্রকার ভয়ের মধ্যে আছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বাড়তি কর না দিলে মামলা দিচ্ছে এনবিআর।

আব্দুস সালাম বলেন, এসব ক্ষেত্রে রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের সময় বেধে দিতে পারেন। সময় পার হয়ে গেলে বরং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তলব করতে পারেন। তবে হয়রানির উদ্দেশ্যে যেন কিছু করা না হয়।

এসময় এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, আপনাদের কোনো রকমের হয়রানি করা হবে না। এনবিআর আগের চেয়ে অনেক ব্যবসায়ী বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করছে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জিরো টলারেন্সের ব্যবস্থা করেছি। সব সমস্যার সমাধান হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এনবিআরে কোনো প্রকার অভ্যন্তরীণ কোন্দল নেই। প্রথম প্রান্তিকে একটা প্রস্তুতির বিষয় থাকে, অনেক চ্যালেঞ্জের বিষয় থাকে। এছাড়া প্রথম প্রান্তিকে এমনিতেই রাজস্ব আদায় কম হয়। ফলে আমরা প্রথম প্রান্তিকে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারিনি। অনুষ্ঠানে এনবিআরের বিভিন্ন উইংয়ের সদস্যসহ ডিসিসিআইয়ের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

সানবিডি/ঢাকা/এসএস