অপ্রাপ্তির কিছু নেই অর্থমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৮-১২-১৭ ২২:৩৬:৪১
গত ১০ বছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের অপ্রাপ্তির কিছু নেই বলে মনে করেন তিনি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রাপ্তির জায়গাগুলো এতো বড়, ছোট-খাটো অপ্রাপ্তিগুলো আর চোখে পড়ে না। সোমবার (১৭ডিসেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন,শুধু একটি ইচ্ছা ছিল জেলা বাজেট করে যাওয়ার। তবে এর জন্য একটি পথ রেখে গেছি। পরবর্তী যে কোনও সরকার জেলা বাজেট করতে চাইলে এটা অনুসরণ করে করতে পারবে। এই ১০ বছর দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ভালো থাকায় ব্যবসায়ীরা আর অরাজকতা চায় না। এখন এমন কিছু ঘটলে ব্যবসায়ীরাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
গত ১০ বছরে দেশের অবস্থার প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, আজ আমি খুব খুশি। গত ১০ বছরে দেশের যে উন্নয়ন হয়েছে, এ জন্য আমি বেশি বেশি করে চাই আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসুক। তাহলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। আমি আশা করি, পরবর্তী সরকারের আমলেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি দারিদ্র্য নির্মূল কার্যক্রমও চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, আগামীতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোনও বাধা সৃষ্টি হবে না। দারিদ্র্য বিমোচনের কাজ বন্ধ হবে না। কারণ, বিগত ১০ বছর ধরে দারিদ্র্য নির্মূলে কাজ করছে সরকার। বর্তমানে দেশে তিন কোটি দরিদ্র লোক রয়েছে, যা ক্রমান্বয়ে কমছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আর্থিক খাতে সুশাসনের অভাব নেই। তবে খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা। খেলাপি ঋণ বিষয়ে সমাধান করাটা একটু কঠিন। ১০ শতাংশের নিচে রাখাটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এ জন্য আমি খেলাপি ঋণ কীভাবে আদায় করা যায়, এ বিষয়ে একটা প্রতিবেদন তৈরি করছি, যা আগামী সরকারের জন্য রেখে যাব। সেখানে ১০ শতাংশ খেলাপি ঋণ হলেই অ্যাকশনে যাওয়ার পরামর্শ থাকতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, একসময় ব্যাংকিং খাত সরকারি ছিল। কিন্তু এখন ব্যাংকিং খাত ব্যক্তিমালিকানায় অনেক প্রসারিত। ব্যাংকিং খাতের সিংহভাগ ব্যবসা ব্যক্তিমালিকানা খাতেই হয়ে থাকে। একসময় সোনালী ব্যাংক ছিল সবচেয়ে বড়। এখন আর সেটা নেই। এ ব্যাংকটি দুর্বল হয়ে গেছে। আমাদের এখানে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। বর্তমানে দেশে তিনটি নতুন ব্যাংকসহ মোট ৬০টি ব্যাংক রয়েছে। এ জন্য আগামীতে নতুন কোনও ব্যাংক অনুমোদন দেয়া হবে না। এ জন্য একটি নির্দেশনা দিয়ে যাব। তবে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে নতুন কোনও ব্যাংক অনুমোদন দেয়া হবে না। বরং যারা খারাপ করবে তাদের একিভূত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশেষায়িত ছয়টি ব্যাংকের মধ্যে সোনালী ব্যাংক রেখে বাকিগুলোকে বেসরকারি খাতে দেয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আমাদের প্রাইভেট সেক্টরের ব্যাংকের অবস্থা ভালো না হওয়ায় সেটা করা যাবে না। আর সোনালী ব্যাংকের অবস্থার একটু উন্নতি করতে হবে। এ জন্য ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি পরামর্শ দিয়ে যাব। সেটাতে অনেক কিছুই থাকবে। আমি আগামী ৫ বছরের জন্য একটি প্রোগ্রাম করেছি। সেখানে তাদের একটি লক্ষ্যমাত্রা দিয়ে দেয়া হবে। এই লক্ষ্যমাত্রা যারা পূরণ করতে পারবে না তাদের অবসায়ন বা একীভূতকরণ করা হবে। এ ছাড়া ব্যাংকিং কমিশনসহ আর্থিক খাতের উন্নতিতে কিছু পরামর্শ দেয়া হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, সরকার দেশের আর্থিক খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক আগে থেকেই চেষ্টা করছে। এ জন্য কিছু প্রস্তাবও থাকবে আমার প্রতিবেদনে।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














