এলডিসি ও জিএসপি সুবিধা হারানোর আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০১৯-০১-০১ ১১:৩৫:৪১


এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য যেমন মর্যাদা ও সম্ভাবনার বিষয়, তেমনি কিছুটা উদ্বেগেরও। কারণ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ রফতানি পণ্যের প্রধান ক্রেতা দেশগুলোর কাছ থেকে যে বাণিজ্য সুবিধা পেত, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর তা আর নাও পাওয়া যেতে পারে। কারণ একটি দেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের কোন স্তরে রয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে সে দেশকে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা দেয়া হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জোটগতভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ দুইয়ের একটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশে চূড়ান্তভাবে উত্তরণের পর বাংলাদেশ তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউতে শুল্ক, কোটা ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য (জিএসপি) সুবিধা হারানোর মতো কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধান অনুযায়ী বাজার অভিগম্যতায় স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে যে বিশেষ সুবিধা পেত, তাও হারাতে হবে বাংলাদেশকে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) গবেষণা অনুসারে, বাংলাদেশ এলডিসি হিসেবে যেসব সুযোগ-সুবিধা পেত, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর সেগুলোর শর্তে পরিবর্তন আসবে। বিষয়টি দেশের অর্থনীতির জন্য, বিশেষ করে রফতানি খাতের জন্য খানিকটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইইউতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা হারানো।

বাংলাদেশ ইইউতে বিদ্যমান এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ) সুবিধা হারানোর পর জিএসপি প্লাস না পেলেও স্ট্যান্ডার্ড জিএসপির সুবিধা পেতে পারে। এর জন্য বাংলাদেশের এখনই প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করতে হবে বলে মনে করে পিআরআই। উল্লেখ্য, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য ইবিএ কর্মসূচির অধীনে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা ও শিথিল রুলস অব অরিজিন সুবিধা প্রদান করে ইইউ।

ইইউতে জিএসপি প্লাস সুবিধার আওতায় বিশ্বজুড়ে অগ্রাধিকারমূলক বাজার ব্যবস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সুবিধা প্রদান করা হয়। এর আওতায় পোশাকসহ ৬৬ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পায়। পিআরআই বলছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ জিএসপি প্লাসের জন্য আবেদন করতে পারে। কিন্তু বিদ্যমান জিএসপি মানদণ্ডে বাংলাদেশের জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। সেক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড জিএসপি বাংলাদেশের জন্য একমাত্র ভরসা হতে পারে।

তবে ব্যবসায়ীরা কিন্তু এখনই আশা হারাতে চান না। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি ফজলুল হকের মতে, বাংলাদেশের এতে ভীত হওয়ার কিছু নেই। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতাসহ বেশকিছু যুক্তি রয়েছে বলে জানান তিনি।