বিচারহীন ফেলানী হত্যার ৮ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০১৯-০১-০৮ ১৬:২৮:১১


২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী ।

গতকাল সোমবার (৭ জানুয়ারী)ফেলানী হত্যার আট বছর র্পূণ হয়েছে। প্রতিবছর এই দিনটিতে মিলাদ মাহফিল ও কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করে তার পরিবার।

লালমনিরহাট-১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ার-উল-আলম রোববার রাতে তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেন। বিজিবির পক্ষ থেকে দোওয়া মাহফিল পরিচালনা ও নতুন কাপড়-চোপড়ের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

আট বছর আগে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফুলবাড়ীর উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবা নুর ইসলামের সঙ্গে মই দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া টপকিয়ে বাংলাদেশে ফেলার সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় ফেলানী। ফেলানীর নিথর দেহ কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে ছিল চার ঘণ্টা। এ হত্যাকাণ্ডে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমসহ মনবাধিকার কর্মীদের মাঝে সমালোচনার ঝড় উঠলে ২০১৩ সালের ১৩ অগাস্ট বিএসএফের বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার কাজ শুরু হয়।

২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাদ দেয় ভারতের কোচবিহারের সোনারী ছাউনিতে স্থাপিত বিএসএফ’র বিশেষ আদালত। পুনঃবিচারের দাবিতে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারত সরকারের নিকট আবেদন করেন। পরে বিজিবি-বিএসএফ’র দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে ফেলানী হত্যার পুনঃ বিচারের সিদ্ধান্ত হয়।

২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনঃবিচার শুরু করে বিএসএফ। ঐ বছরের ১৭ নভেম্বর ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে অমিয় ঘোষকে অভিযুক্ত করে পুনরায় সাক্ষ্য প্রদান করেন এবং অমিয় ঘোষের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

২০১৫ সালের ১৩ জুলাই ভারতীয় মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) ফেলানী খাতুন হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করে। ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর

শুনানীর পর ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে বারবার তারিখ পিছিয়ে যায়। ফলে থমকে গেছে ফেলানী খাতুন হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপুরণের দাবি।

ফেলানীর প্রতিবেশী পল্লী চিকিৎসক আব্দুল মান্নান ও কৃষক আজমত আলী বলেন, সারা বিশ্ব এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জেনেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে ফিরে গেছে। কিন্তু ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও সুষ্ঠু বিচার হয়নি।“আমরবিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে হতাশ। এই নির্মম হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম ও মা জাহানারা বেগম বলেন, সরকার ফেলানীর পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও হতদরিদ্র এই পরিবারের পাশে সেভাবে দাঁড়ায়নি।
এছাড়াও বারবার শুনানী পিছিয়ে যাওয়া ও বিচার কাজ আটকে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর এসএম আব্রাহাম লিংকন বলেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চে ফেলানী হত্যা ও ক্ষতিপূরণের শুনানি রিট আবেদন গ্রহণ করে

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি সংস্থাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়। ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর ভারতের সর্বোচ্চ আদালত আগামী ১৮ জানুয়ারি দু’টি রিটের শুনানির দিন ধার্য করে।

শুনানি পিছিয়ে গেলেও ফেলানীর পরিবার ন্যায় বিচার পাবে বলে প্রত্যাশা তার।

ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তের দায়িত্বে থাকা লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পাওয়ার পরপরই তিনি রোববার রাতে ফেলানীর এলাকায় গিয়ে তার পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। এসময় অনুষ্ঠান পরিচালনা ও পরিবারটিকে আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য ৬ হাজার টাকা দেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন বলেন, ফেলানীর পরিবারকে বিভিন্ন সহযোগিতা ছাড়াও জেলা প্রশাসন ও বিজিবি’র উদ্যোগে একটি দোকান করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তারা যখনই এসেছে তাদেরকে সহায়তা করা হয়েছে।