পাটকাঠি থেকে চারকোল উৎপাদন ও রপ্তানী বাড়াবে সরকার
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০১-১৬ ১৬:২২:৫৭
পাটকাঠি থেকে অধিক পরিমাণে অ্যাকটিভেটেড চারকোল উৎপাদন ও বিদেশে রফতানি বাড়ানোর কাজ করবে সরকার বলে জানিয়েছেন, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক।
মন্ত্রী বুধবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে বাংলাদেশ চারকোল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে পাটকাঠি থেকে অ্যাকটিভেটেড চারকোল উৎপাদন । এর ফলে কৃষকরা পাট উৎপাদন করে আগের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন। চারকোল উৎপাদন ও রফতানি বাড়াতে সব ধরনের সহয়তা করবে সরকার। পাট থেকে এ ধরনের যত বেশি বহুমুখী পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে, তত দ্রুত সোনালি আঁশের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, ২০১২ সাল থেকে দেশে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে পাটকাঠি থেকে অ্যাকটিভেটেড চারকোল উৎপাদন শুরু হয়। ওই বছরই প্রথম চীনে রফতানি করা হয় এ পণ্য। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চারকোলের চাহিদা রয়েছে। দেশে এ পণ্য উৎপাদনের ব্যাপ্তি বাড়লে আগামীতে জাপান, ব্রাজিল, তুর্কমেনিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, কানাডা, মেক্সিকোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চারকোল রফতানি সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চারকোল দিয়ে তৈরি হচ্ছে ফেসওয়াশ, ফটোকপিয়ারের কালি, পানির ফিল্টার, বিষ ধ্বংসকারী ওষুধ, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, দাঁত পরিষ্কার করার ওষুধ। এছাড়া বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে এ কার্বন ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১০-১২টি চারকোল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় চারকোল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চারকোলের অবারিত সম্ভাবনার কথা উপস্থাপন করা হয়। দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩০ লাখ টন পাটকাঠি উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে যদি ৫০ ভাগ পাটকাঠি চারকোল উৎপাদনে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টন চারকোল উৎপাদন সম্ভব হবে। এই চারকোল রফতানি করে প্রতিবছর প্রায় ২৫শ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং সারাদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করা সম্ভব হবে।
পাটমন্ত্রীর কাছে চারকোল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মির্জা জিল্লুর রহমান চারকোলকে উদীয়মান শিল্প হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান। এছাড়া পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ও পাটজাত পণ্য হিসাবে ২০ ভাগ ক্যাশ ইনসেনটিভ পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ শিল্প বিকাশে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সুযোগ দেওয়ারও দাবি জানান।
মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এসব প্রস্তাব ও পরার্মশ মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি বলেন, নতুন এ খাতে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেসব বিষয়ে সরকার অবগত। এ সমস্যা দূর করতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সব
ধরনের সহায়তা করবে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চারকোল শিল্পের বিকাশের জন্য সব পক্ষের সার্বিক সহযোগিতা চান তিনি।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














