আলুর বাম্পার ফলনেও কৃষকের মাথায় হাত

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০১-১৬ ১৯:৫৫:১৭


এ বছর দিনাজপুর জেলায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে কিন্তু আলুর দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচও মিলছেনা কৃষকের। আলুর যে দাম পাচ্ছেন তা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।

যদিও চাষীরা আলু বিক্রি করে ‍উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছেন না কিন্তু লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।কৃষকের উৎপাদিত আলু অল্প দামে ক্রয় করে বিভিন্ন বাজারে বেশী দামে বিক্রি করছেন তারা।

দিনাজপুরে গত কয়েক বছর ধরে আলুর বাম্পার ফলন হলেও লোকশান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।উঁচু জমি গুলোতে আগাম জাতের আলু চাষ করে কিছুট লাভবান হলেও ভরা মৌসুমে উৎপাদন খরচটাও পাচ্ছেন না তারা।

হিমাগারে জমা রাখা আলুর খরচ মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।কৃষকরা জানান, নিজ জেলা ছাড়া অন্য কোন জেলায় আলু বিক্রি করতে পারেন না তারা। এজন্য কম দামেই এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে আলু বিক্রি করতে হয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগাম জাতের আলু চাষাবাদে কৃষক লাভবান হন। আলু যখন বাজারে ওঠে, তখন আলুর সংকট থাকে। ফলে বাজারে আমদানি কম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে আলুর দাম তখন বেশি হয়। আর ভরা মৌসুমে আলুর আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কমে যায়। তাই এখন আলুর দাম কম।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধদিপ্তর থেকে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ৪৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ২৮০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে।

দিনাজপুর শকিদারগঞ্জ আলু চাষী জসীম উদ্দিন বলেন, গত দশ বছর থেকে পৈত্রিক ৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে আসছেন তিনি। গত কয়েক মৌসুম থেকে আলুর বাম্পার ফলন হলেও দাম না পেয়ে অনেক লোকশান হয়েছে। এবারও একই অবস্থা।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল  জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আলু চাষাবাদে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কৃষকদের সার্বক্ষণিক সঠিক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। উন্নত জাতের আলু চাষাবাদ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট দেশের বাইরে রফতানি করা যায়। রফতানি করার উদ্যোগ গ্রহণ করলে কৃষক ও দেশ লাভবান হবে।