এসডিজি বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করবে তিন প্রতিষ্ঠান 

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৯-০১-১৬ ১৮:৪৯:৩৩


টেকসই উন্নয়ন সঠিক জায়গায় পৌছাতে এবং এর তদারকি বাড়াতে যৌথভাবে কাজ করবে তিন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। এই প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে এসডিজি বাস্তবায়ন ও এসডিজি ট্র্যাকারের ব্যবহার নিশ্চিত করছে।

বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো অডিটরিয়ামে এসডিজি ট্র্যাকার বিষয়ক এক কনসালটেশন কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এটুআই ও বিবিএস যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালা আয়োজন করে। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রধান সুদীপ্ত মুখার্জ্জী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েন ও এটুআই প্রকল্পের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন এটুআই হেড অব রেজাল্টস ম্যানেজমেন্ট ড. রমিজ উদ্দিন এবং বিবিএস উপপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, তথ্য-উপাত্ত পারিসংখ্যানগতভাবে দৃশ্যমান করতে হবে। সে অনুযায়ী সীমিত সম্পদের দক্ষ বণ্টন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচি এই ট্র্যাকার তৈরি করেছে। এটি বাস্তবায়নে যৌথভাবে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে এসডিজি বাস্তবায়ন ও এসডিজি ট্র্যাকারের ব্যবহার নিশ্চিত করছে।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর ১০টি উদ্যোগ সফলভবে বাস্তবায়ন করা গেলে এসডিজির অনেক কিছুই অর্জন হবে। আমাদের দেশের আয় বৈষম্য কমাতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অগ্রদূত হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং বাংলাদেশের এই অর্জন সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। এমডিজির মতো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনেও বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ জন্য সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ কিন্তু গতানুগতিক ও স্বাভাবিক ধারায় চলছে না, বাংলাদেশ চলছে অসম্ভব গতিতে। কাজেই আপনাদেরও সেভাবেই প্রস্তুত থাকতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে, যেন আগামী পাঁচ বছর পর বলতে না হয় কোনো ক্ষেত্রে নজর দেওয়া হয়নি। কোনো কাজ হাফডান করা যাবে না। পূর্ণাঙ্গরূপে সব কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো একটি উন্নয়ন এজেন্ডা হিসেবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ গ্রহণ করেছে। এর মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে— কাউকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। বাংলাদেশের এই লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে অন্যতম নিয়ামক হচ্ছে তথ্য-উপাত্ত নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রাধিকারভিত্তিক সম্পদের বরাদ্দ। একটি কার্যকর, তথ্যনির্ভর, বহুল ব্যবহৃত ও সমন্বিত এসডিজি পরিবীক্ষণ কাঠামো টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে মূল ভূমিকা পালন করতে পারে।

সুদীপ্ত মুখার্জী বলেন, ২০১৬ সাল থেকে জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে ইউএনডিপি বাংলাদেশসহ আরও ১৭০টি দেশে এসডিজি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে এসডিজি সম্পর্কিত সব কার্যক্রম সমন্বয় করে এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ নির্মাণের মাধ্যমে এসডিজি ট্র্যাকার বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করে। ইউএনডিপি এসডিজি ট্র্যাকার বাস্তবায়ন এটুআইকে প্রযুক্তিগত সহায়তা করে এবং এটুআই অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে ট্র্যাকার উন্নয়নে সমর্থন দেয় এটুআই। ইউএনডিপির সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

সভাপতির বক্তব্য সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে এসডিজি ট্র্যাকার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। বিবিএস এবং তথ্য ও পরিসংখ্যান বিভাগ এসডিজি ট্র্যাকারের মাধ্যমে উন্নয়ন পর্যবেক্ষণে এটুআইয়ের সঙ্গে কাজ করা যাবে।