একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার লক্ষ্য বেজার

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০১-১৭ ১৭:১৩:২০


দেশের  অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে এবং  উন্নয়নের চাকা গতিশীল করতে নিরলসভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

উন্নয়নের গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে দেশব্যাপী একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যেমাত্রা গ্রহণ করেছে এবং সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ।

বেজার ব্যবস্থাপক ও উপসচিব আবু হেনা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, চলতি বছরে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ৮৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই সবগুলো দৃশ্যমান হবে।

এ সময় তিনি বলেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো গড়ে উঠলে চাপমুক্ত হবে ঢাকা। ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ছোঁয়া প্রত্যেকটি বিভাগে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। যার ফলে মানুষকে আর ঢাকামুখী হতে হবে না। শুধু রাজধানীবাসী না, দেশজুড়েই মানুষ অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে।

পরিসংখ্যানে জানা যায়, দেশে প্রতি বছর ২৭ লাখ মানুষ কর্মের বাজারে প্রবেশ করতে চান। কিন্তু কাজের সুযোগ না থাকায় তাদের অধিকাংশই বেকার থেকে যান। এখন পর্যন্ত বেকার রয়েছেন চার কোটি মানুষ।

বেকারত্ব হ্রাসের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, একটি দেশের ইকোনমিক জোন গড়ে উঠার প্রধান লক্ষ্যই হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় কাজের সুযোগ পাবেন এক কোটি মানুষ। এ ছাড়া এই শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা লিঙ্কেজ শিল্প, অন্যান্য সেবা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টিই নয়, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে। অতিরিক্ত ৪০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ বাড়বে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে। একদিকে যেমন পরিকল্পিত শিল্পনগরীতে উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে শিল্পায়নের বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে পরিবেশ। বিনিয়োগকারীরা সব সেবা ও সুযোগ-সুবিধা এই অঞ্চলের মধ্যেই পাবেন। এতে তাদের ব্যবসার খরচ কমবে, সময় বাঁচবে ও যাবতীয় প্রক্রিয়া সহজ হবে।

অত্যাধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি করা হবে বনায়ন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেজা পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল তার সভাপতিত্বে হয় প্রথম পরিচালনা পরিষদের বৈঠক। বর্তমানে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কাজ শেষ করতে ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প (পর্যায়-১)’ শীর্ষক একটি প্রকল্পও হাতে নেয় সরকার।

ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো  বিদেশিদের আকৃষ্ট করেছে। সেখানে বড় আকারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে নামকরা সব দেশি-বিদেশি কোম্পানি। চীন, ভারত, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের শিল্পোদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আসছে বিনিয়োগ প্রস্তাব। এ ছাড়া বস্ত্রশিল্প, মোটরসাইকেল তৈরি, নির্মাণসামগ্রী ও কাচশিল্প স্থাপনেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে অনেক বিদেশি কোম্পানি। দেশীয় কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে বিনিয়োগ করতে বেশ কয়েকটি বিদেশি কোম্পানি সমঝোতা স্মারকও করেছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বলছে, দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যেই ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ শেষ করা হবে।

জানা গেছে, প্রস্তাবিত ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে ইতোমধ্যে ৮২টির প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বেজার গভর্নিং বোর্ড। এর মধ্যে ২৩টি বেসরকারি অঞ্চল এবং বাকিগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

এদিকে বিনিয়োগকারীরা বলছে, শিল্প গড়ার জন্য তাদের দীর্ঘদিনের চাওয়া পূরণ করছে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলের কারণে এর আশপাশের এলাকাগুলোয়ও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগছে। এলাকার রাস্তাঘাট ও গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল, হোটেল, আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। বহু মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকা হয়ে উঠছে ব্যবসা-বাণিজের কেন্দ্র।