বিশ্বে মৎস্য চাষে তিন নম্বরে বাংলাদেশ
সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০১-২৪ ১৪:৫০:৪১
বিশ্বে মাছ উৎপাদনে তিন নম্বরে বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশ এখন মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ । এ অর্জন ৪ বছর পূর্বেই সম্পূর্ণ হয়েছে। গত অর্থবছরে ৪২.৫০ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। চলতি অর্থবছর শেষে এর পরিমাণ প্রায় ৫০লাখ টনে দাঁড়াবে বলে অশা করা হচ্ছে।
তবে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ এখন বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ উৎপাদন। বিলুপ্ত ৬৪ প্রজাতির মাছ উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া মিলছে। ইতিমধ্যে ১৯ প্রজাতির মাছ উৎপাদন ও চাষাবাদ প্রযুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে। বাকি বিলুপ্ত ৪৫ প্রজাতির মাছ উৎপাদনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ চলছে। বিলুপ্তপ্রায় মাছ ফিরিয়ে আনার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট ইতিমধ্যে ৬টি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে। মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ এ দেশ মাছ উৎপাদনে বিশ্বের তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
তথ্য মতে, মাছ চাষে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে প্রথম-দ্বিতীয়ও হতে পারে বলে মৎস্য অধিদফতরের ধারণা । ১৯৯০ সালে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন মাছ উৎপাদন দিয়ে শুরু হয়। ২০০০ সালে তা বেড়ে হয় ৬ লাভ ৫৭ হাজার টন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ লাখ মেট্রিক টন। মাছ উৎপাদন হয়েছে ৪১.৩৪ লাখ মেট্রিক টন। ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে মাছের মোট উৎপাদন ছিল ৭.৫৪ মেট্রিক টন। ৩৪ বছরের ব্যবধানে ২০১৭-১৮ সালে এই উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৪২.৫০ লাখ মেট্রিক টন।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালকের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ জানান, মাছ চাষে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগেই। উৎপাদন আমাদের লাফিয়ে বাড়ছে। চলতি অর্থবছর শেষে এ সংখ্যা প্রায় অর্ধলাখ মেট্রিক টনে গিয়ে ঠেকতে পারে। তবে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ দেশীয় মাছের বিকল্প নেই। বিপন্ন প্রজাতির ও দেশীয় ছোট মাছের প্রজনন ও চাষ কৌশল উদ্ভাবনে বিএফআরআই ইতিমধ্যে সফলতা অর্জন করেছে। এখন চ্যালেঞ্জ বিলুপ্ত ৬৪ প্রজাতির মাছ উৎপাদন করা।
তিনি বলেন, মাছে বৈপ্লবিক এ অর্জনের পেছনে রয়েছে জাত উন্নয়নের বিষয়টি। অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে জাত উন্নয়নের মাধ্যমে রুই, তেলাপিয়া, সরপুঁটি, কই, পাঙ্গাস মাছসহ বিভিন্ন প্রকার মাছ যথাক্রমে ৪ থেকে ৫৮ শতাংশ অধিক উৎপাদন করা হয়েছে।
ড. ইয়াহিয়া বলেন, আমরা ইতিমধ্যে বিলুপ্ত ১৯ প্রজাতির মাছ উৎপাদন করেছি। বাকিগুলোর উৎপাদনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
বিলুপ্ত প্রায় মাছগুলোর মধ্যে পাবদা, গুলশা, টেংরা, দেশি পুঁটি, চিতল, ফলি, মহাশোল, শিং, গুতুম, আইড়, বাটা, কুঁচিয়া অন্যতম। এসব প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে ব্যবহার এবং নদ-নদী ও বিলে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ মাছের জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে।
মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে অনেক বড় ভূমিকা রাখছে মাছ। এ স্বয়ংসম্পূর্ণতা বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করছে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম ভূমিকা ছিল ইলিশ মাছের। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদিত হয়। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টনে। বিশ্বে ইলিশের উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। বিশ্বের মোট ইলিশের ৭৫ ভাগ বাংলাদেশে উৎপাদন হয়।
বিশেষজ্ঞদের বলছেন, মা ইলিশ রক্ষায় নদীর পরিবেশ, জাটকা সংরক্ষণ ও অভয়াশ্রম নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশে বছরে শুধুমাত্র ইলিশের বাণিজ্য ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এদিকে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩১ শতাংশ মানুষ মৎস্য খাতে জড়িত, প্রায় ১২ শতাংশ লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর ওপর নির্ভরশীল। মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্য রফতানিতেও অন্যতম বাংলাদেশ। ২০১৬ ১৭ অর্থবছরে মাছ রফতানি করে ৪ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদা আয় হয় ৪ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা।
ছাড়া সরকার এবং ব্যাংকগুলো মাছ ও কৃষিকাজে সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার ফলে মাছের দিকে মানুষ ঝুঁকেছে। গ্রামে গ্রামে মাছের চাষ আনন্দ পরিবেশে চাষ করা হচ্ছে।
মৎস্য অধিদফতেরর মহাপরিচালক আবু সাঈদ মো. রাশেদুল হক বলেন, মাছে-ভাতে বাঙালি, এ স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয়, ইলিশে প্রথম।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














