আগামী একবছরে শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ: নসরুল হামিদ

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০২-০৩ ১৮:৪৮:৫৫


আগামী এক বছরের মধ্যে শিল্প-কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা  সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেছেন, এলএনজি পাইপলাইনে বিদেশ থেকে আনা তরল গ্যাস যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো।

রবিবার ৩ ফেব্রুয়ারী  রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই এই সেমিনারের আয়োজন করে। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য: গতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিদ্যুতের সর্বোত্তম ব্যবহার’।

ঘোষিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপনের তাগিদ দিয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে  নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের গ্যারান্টি দিচ্ছি।  বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ডিপিডিসি ও পিজিসিবি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।’

‘ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ রাস্তার পাশে যেখানে কমদামে জমি পাওয়া যাচ্ছে সেখানে শিল্প স্থাপন করে গ্যাস বিদ্যুৎ চাইলে নিরবচ্ছিন্ন দেওয়া কঠিন। প্ল্যানওয়েতে শিল্প হতে হবে। আশুলিয়া এক সময় ছিল গ্রাম, এখন বিশাল শিল্পাঞ্চল হয়ে গেছে।’

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানের শুরুতেই  দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি সম্পর্কে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেন। তিনি জানান, বর্তমানে উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার ৮৮৫ মেগাওয়াট। উৎপাদিত বিদ্যুতের ৫৬ শতাংশ এখন বেসরকারি খাত থেকে আসছে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী ব্যবসায়ীদেরকে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র (শিল্পে নিজেরা উৎপাদন করে) থেকে বেরিয়ে সরকার থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার পরামর্শ দেন। বলেন, ‘আপনাদের জেনারেটরগুলোর ইফিসিয়েন্সি ২০ শতাংশ। ওই গ্যাস দিয়ে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে ইফিসিয়েন্সি ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ আসে।

‘শীতে আমাদের চার হাজার মেগাওয়াট অবিক্রিত বিদ্যুৎ রয়েছে। উৎপাদন না করলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে।’

রাত ১১টার পর কারখানা চালু রাখলে বিদ্যুতের দাম কমানোর বিষয়টি ভেবে দেখার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা জনাব সালমান এফ রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে  বলেন, ‘বর্তমান সরকার তার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বেসরকারি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে দেশকে এগিয়ে নিতে বেসরকারি খাতেরও যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার ব্যাপারে সরকার কাজ করছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় (কষ্ট অব ডুইং বিজনেস) পরিস্থিতির উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি উন্নতির উপর জোর দেন।

এনার্জি প্যাক পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশিদ, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মেজবাহ উদ্দিনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।