পাম দেশের সুদর্শন পথবৃক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৪ ১১:২১:৫২


পাম শাখাবিহীন লম্বা গাছ। পাম উদ্ভিদ দলে রয়েছে পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম বৃক্ষ। পামের সর্বমোট ২৩০ গণ ও প্রায় ২,৭০০ প্রজাতি প্রধানত উষ্ণমন্ডল ও উপ-উষ্ণমন্ডলে বিস্তৃত। বাংলাদেশে বনজ পাম-প্রজাতি অন্যূন ২০ আর বিদেশি প্রজাতি ৫, রাস্তার পাশে ও বাগানে লাগানো হয়। অর্থনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বুনো-পাম  গোলপাতা জন্মে সুন্দরবনে, পাতা প্রধানত উপকূলীয় অঞ্চলে কুঁড়েঘরের উত্তম ছাউনি, ফুল মৌমাছির মধুর উৎস, এর বীজ চিবিয়ে খাওয়া যায়। পাম এদেশের সুদর্শন পথবৃক্ষ। গোলসাগু দেশজ বনবৃক্ষ। দেশের পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ে পামওয়েল চাষের চেষ্টা চলছে।

পাম ফল থেকে পাম তেল নিষ্কাশন করা হয়। বাংলাদেশে একটি চার/পাঁচ বৎসর বয়সী পাম গাছ থেকে বছরে ন্যূনপক্ষে ৪০ কেজি পামওয়েল পাওয়া যায়। একটি পাম গাছ থেকে একটানা ২৫/৩০ বছর পর্যন্ত তেল পাওয়া যায়। পাম ফল থেকে পামওয়েল আহরণের সময় যে পুষ্টিসমৃদ্ধ পূর্ণ ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য পাওয়া যায়, তাই পামঅয়েল বাগানের সার হিসেবে ব্যবহার হয়। রাসায়নিক, কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস করার জন্য পামওয়েল উদ্ভিদ বালাই নিয়ন্ত্রণের কাজে জৈব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। পামগাছের পাতা জমিতে সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। পামগাছের ১ টন শুকনা পাতা মাটিতে ৭.৫ কেজি নাইট্রোজেন, ১.০৬ কেজি ফসফরাস, ৯.৮১ কেজি পটাসিয়াম ও ২.৭৯ কেজি ম্যাগনেসিয়াম ফিরিয়ে দেয়। এজন্য বলা যায় পাম গাছ পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও পরিবেশ বান্ধব।পাম তেলে কোলেস্ট্রলের মাত্রা কম, তাই এটি স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।