২০৩৪ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্মান ঋণ শোধ হবে: সংসদে সেতুমন্ত্রী

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০২-০৪ ১৯:০৯:৫০


বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু নির্মানকালীন ব্যয় হয়েছিল তিন হাজার ৭৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।এই সেতু নির্মান হওয়ার পর এ যাবত টোল আদায় হয়েছে চার হাজার ৯৮৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।এর ফলে সেতুটি নির্মান ব্যয় থেকে এক হাজার ২৪১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বেশী টোল আদায় হয়েছে।

সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালীন প্রশ্নোত্তরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানিয়েছেন। আগামী ২০৩৪ সালে এই সেতু নির্মানে উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ পরিশোধ হবে বলে জানান তিনি।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় সংসদে সরকারি দলের মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্মাণ ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ৭৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অন্যদিকে এ পর্যন্ত (ডিসেম্বর ২০১৮) এ সেতু থেকে টোল আদায় হয়েছে চার হাজার ৯৮৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এ অর্থ হতে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সহ সেতু কর্তৃপক্ষের অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের পর সেতু নির্বাহে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর ঋণ পরিশোধ করা হয়ে থাকে। তবে, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় Amortization Schedule অনুযায়ী উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো হতে গৃহীত ঋণ সেতু হতে আদায়কৃত টোলের মাধ্যমে ২০৩৪ সাল নাগাদ পরিশোধ সম্পন্ন হবে।’

মন্ত্রীর দেওয়া  তথ্য মতে, সেতু নির্মাণের পর প্রথম বছরে টোল থেকে আদায় হয়েছিল ৯৯ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে আদায় হয়েছে ৫৪৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং এই অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আদায় হয়েছে ২৮৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

নুরুন্নবী চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘ঢাকা শহরের চারদিকে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ১৯ শতাংশ। এ প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগের নেগোসিয়েশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এটি ঢাকার যানজট নিরসনে নতুন মাত্রা সংযোজন করবে।’

এ সময় রেলমন্ত্রী জানান, ঢাকা থেকে শুরু করে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের জন্য মাঠ পর্যায়ের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ।

মন্ত্রী আরো জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম – কুমিল্লা-লাকসাম দ্রুতগতির রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ২১ শতাংশ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিরতিহীনভাবে ৫৭ মিনিটে এবং বিরতি দিয়ে ৬৯ মিনিটে ঢাকা হতে চট্টগ্রাম যাওয়া সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম. আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সাল থেকে এপর্যন্ত এক লাখ ৮ হাজার ৬১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে রেলওয়ের ৮১টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।