ভারত থেকে এলএনজি আমদানীর পরিকল্পনা, যাচ্ছে প্রতিনিধি দল

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৮ ১২:৩০:৪৪


তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ভারত থেকে আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রাকৃতিক গ্যাস আামদানীর বিষয়ে  আলোচনা করতে আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী উপদেষ্টার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভারত যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ২০২১ সালের মধ্যে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করবে সরকার। জ্বালানি বিভাগের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

ক্রস বর্ডার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে এলএনজি  নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। সাতক্ষীরা সীমান্ত হয়ে এই গ্যাস পাইপলাইন বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। তিনি জানান, এজন্য পাইপলাইন নির্মাণে দুই দেশই খরচ বহন করবে। এর ফলে ভারতের সঙ্গে জ্বালানী সহযোগিতার নতুন দুয়ার উন্মুক্ত হবে।

ইন্ডিয়ান অয়েল কোম্পানী লিমিটেড (আইওসিএল) এলএনজি রপ্তানীর জন্য প্রথম প্রস্তাব দেয় বলে জানান জ্বালানী বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা । এই প্রস্তাব পাওয়ার পর এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এর সঙ্গে এরই মধ্যে পাইপলাইন নির্মাণে অর্থায়নের জন্য আলোচনা করা হয়েছে। এখন ভারতের অয়েল কোম্পানীর সঙ্গে আলোচনা করতে উচ্চ পর্যায়ের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে ভারত যাচ্ছে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন জ্বালানী উপদেষ্টা। এ সময় প্রতিনিধি দলটি এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্তাবলী ও দাম নিয়ে আলোচনা করবেন।

ওই কর্মকর্তা  জানান, ২০১৬ সালের ১১ জানুয়ারি আইওসিএল এলএনজি রফতানির জন্য ক্রস বর্ডার পাইপলাইন নির্মাণের জন্য প্রস্তাব দেয়। পরে ২০১৬ সালের ১৩ জুন উভয় দেশের প্রতিনিধি দল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। পরে ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে এ বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে জ্বালানী বিভাগকে আইওসিএল এলএনজি রপ্তানীর টার্মশিট পাঠায়। এই টার্মশিট পাওয়ার পর পর্যালোচনার জন্য জ্বালানী বিভাগ একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে। পরে পেট্রোবাংলার মাধ্যমে ক্রয় চুক্তির খসড়া আইওসিএলকে পাঠানো হলেও এখনো পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে কোনো জবাব দেয়া হয়নি।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো খসড়া গ্যাস ক্রয় চুক্তির বিষয়ে কোনো কিছু জানানো না হলেও ২০১৮ সালের ৩ আগষ্ট গ্যাস ক্রয় চুক্তি পৃথক একটি খসড়া পাঠায় আইওসিএল। মুলত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সফরের সময় এই বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করবে।

বিশ্বের অন্যতম এলএনজি উৎপাদনকারী কোম্পানি এস্ট্রা ট্রান্সকোর এনার্জি ( এওটি) থেকে এই এলএনজি আমদানি করবে বাংলাদেশ।