কর্ণফুলীর পাড়ে সভ্যতার নতুন দিগন্ত

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০২-১০ ১৫:২৩:০৭


হাজারো মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমে লুসাইকন্যা কর্ণফুলীর পাড়ে গড়ে উঠছে সভ্যতার নতুন দিগন্ত। সবার মধ্যে ভিন্নরকমের আবেগ, ভিন্নরকমের অনুভূতি । বিশাল এই কর্মযজ্ঞের সঙ্গে একাত্ম সবার হৃদয়।

পাহাড়, সাগর আর নদীর  মিলন মোহনায় গড়ে ওঠা শহর চট্টগ্রাম। পাহাড়ের পা ছুঁয়ে যেখানে কর্ণফুলী নদী গিয়ে মিশেছে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে, তার অদূরেই রচিত হতে যাচ্ছে এক নতুন ইতিহাস। নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথ, তা-ও আবার নদীর তলদেশে। শুধু কি দেশেই প্রথম? দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নদীর তলদেশ দিয়ে সড়কপথ নির্মাণের ইতিহাস প্রথম সৃষ্টি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় গিয়ে দেখা মেলে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির এই কর্মযজ্ঞে যুক্ত দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারী আর হাজারোশ্রমিকের।

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক হারুনুর রশীদ  বলেন, ‘আমি এই প্রকল্পের জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এই প্রকল্পে ১০০০ থেকে ১২০০ লোক কাজ করছে। এতবড় একটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা নিয়ে শুধু আমি কেন, সবার মধ্যেই গর্ববোধ আছে। তবে আমি তো কর্মকর্তা। আমার কাছে আবেগের চেয়ে বাস্তবতাটাই বেশি প্রাধান্য পায়। সময়মতো সুন্দরভাবে এই প্রকল্পের কাজ যাতে শেষ করতে পারি, সেটাই আমার প্রধান লক্ষ্য।’

২০০৮ সালে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে এক জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ক্ষমতায় গেলে কর্ণফুলীতে টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় আওয়ামী লীগ সরকার।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্তাবধানে চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে আট হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। এরই মধ্যে চীন অর্থায়ন করছে প্রায় চার হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বাকি টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দিচ্ছে।