পাওনা পরিশোধের দাবি চিনিকল আখ চাষি ফেডারেশনের

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০২-১৩ ১৭:০৯:৪৬


আখের মূল্যবাবদ ২শ’ ৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) কাছে বকেয়া পরিশোধের দাবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ চিনিকল আখ চাষি ফেডারেশনের নেতারা। তারা বলেন, লাখ লাখ আখ চাষি রাষ্ট্রায়ত্ত ১৫টি চিনিকলে তাদের উৎপাদিত আখ সরবরাহ করেও আখের মূল্য পাচ্ছে না। এর ফলে আখ চাষে তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে। এটি অব্যাহত থাকলে আগামী মাড়াই মওসুমে চিনিকলগুলোতে আখ পাওয়া যাবে না বলে তারা আশংকা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ চিনিকল আখ চাষি ফেডারেশনের নেতারা আজ শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সাথে বৈঠককালে এ দাবি জানান। এ সময় শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এম.পি উপস্থিত ছিলেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ে আজ এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ফেডারেশনের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মজাহারুল হক প্রধান এম.পি, সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব মোঃ ফরিদুল হক খান দুলাল এম.পি, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান আলী বাদশা, সহসভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মোসলেম উদ্দিন ও মোঃ জিন্নাত আলী প্রধান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান আতু, সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওসমান গণি মোল্যা ও সিরাজুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মোঃ ইয়াসিন আলী এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব বেগম পরাগ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ফেডারেশনের নেতারা চিনি শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় ‘র’ সুগার আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির দাবি জানান। তারা বলেন, ‘র’ সুগার আমদানির ক্ষেত্রে রিফাইনারী মালিকরা পরিশোধিত চিনির ৬০ শতাংশ রপ্তানির নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। আমদানিকৃত কাঁচামাল থেকে পরিশোধিত চিনির শতভাগ দেশেই বাজারজাতের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো উৎপাদিত চিনির উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছে না। তারা চিনি শিল্পের বর্তমান অবস্থার উন্নয়নে আমদানিকৃত চিনি ও কাঁচামালের শুল্ক যৌক্তিককরণের তাগিদ দেন। একই সাথে তারা এ শিল্পের বিরাজমান সমস্যা চিহ্নিত করে এগুলোর কার্যকর সামাধানে ফেডারেশন, বিএসএফআইসি এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের যৌথ অংশগ্রহণে একটি সভা আয়োজনের পরামর্শ দেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে বর্তমান সরকার চিনি শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেবে। এ শিল্পখাতে বিরাজমান প্রশাসনিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে আখ চাষিদের বকেয়া পাওনা পরিশোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে আলোচনা করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চিনির বাজারদর নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিনি শিল্পের বিরাজমান সমস্যার সামাধানে সরকারের নীতিমালা কার্যকর করা হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার অব্যবহৃত জমিতে আখচাষ করা হবে। একই সাথে চিনি কলের সকল জমি আখ চাষের আওতায় নিয়ে আসা হবে। পাশাপাশি ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদেরকেও কারখানায় কাজ করতে হবে। কাজ না করে বেতন নেয়ার অপসংস্কৃতি মেনে নেয়া হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।