সেন্টমার্টিন ইস্যুতে হাজির হয়েছেন মিয়ানমারের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স
সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০১৯-০২-১৪ ১৬:২৭:৪৬
মিয়ানমার তাদের মানচিত্রে সেন্টমার্টিনকে ফের নিজেদের অংশ দাবি করায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলবের জবাব দিতে হাজির হয়েছেন মিয়ানমারের ঢাকা মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অং মিন্ট।
বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হাজির হন অং মিন্ট।
এর আগে, মিয়ানমারের সরকারি একটি ওয়েবসাইটে ফের সেন্টমার্টিনকে নিজেদের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করায় ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও’কে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে রাষ্ট্রদূত ঢাকার বাইরে থাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে মিয়ানমারের ঢাকা মিশনের চার্জ দ্য এ্যফেয়ার্স অং মিন্টকে।
মিয়ানমারের জনসংখ্যাবিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইটে গত বছরও সেন্টমার্টিনকে তাদের মানচিত্রে দেখানো হয়। সে সময়ও মিয়ানমারের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। মিয়ানমার তখন জানিয়েছিল, তারা দেশের মানচিত্র তৈরির কাজ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে করিয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানটি মানচিত্র তৈরিতে ভুল করে সেন্টমার্টিনকে নিজেদের ভুখন্ড হিসেবে দেখিয়েছে। পরে অবশ্য সেটি তাদের মানচিত্র থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, মিয়ানমার মাঝে মাঝে উসকানি দেয়। তবে আমরা সেই উসকানিতে পা দিতে চাই না। আমরা সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে দুদেশের সম্পর্ককে আরও উন্নীত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
গত ৬ অক্টোবর দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (সমুদ্র বিষয়ক) অবসরপ্রাপ্ত নৌ কর্মকর্তা মো. খুরশেদ আলমের দফতরে তলব করে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়, মিয়ানমার সরকার গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে চাচ্ছে। মিয়ানমার ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের সেন্টমার্টিনকে বৈশ্বিক অঙ্গনে নিজেদের বলে প্রচার করছে, যা খুবই আপত্তিজনক। মিয়ানমার এমন আপত্তিজনক কাজ চালিয়ে যেতে থাকলে বাংলাদেশ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।
ওই সময় রাষ্ট্রদূতের হাতে একটি কূটনৈতিক চিঠিও ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেন্টমার্টিন যে বাংলাদেশের অংশ, তার পূঙ্খানুপুঙ্খ প্রমাণ তুলে ধরা হয় ওই চিঠিতে। পাশাপাশি মিয়ানমারের এমন আপত্তিকর কার্যকলাপের জবাবও চাওয়া হয়। এরপর মিয়ানমারের মানচিত্র থেকে সেন্টমার্টিনকে সরিয়ে নিলেও এখন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
পররাষ্ট্র সচিব মো শহীদুল হক বলেন, কী কারণে মিয়ানমার এমন আচরণ করছে, তা বলা মুশকিল। রাষ্ট্রদূতকে ডাকা হয়েছে, তিনি এলে বোঝা যাবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, সেন্টমার্টিন নিয়ে মিয়ানমারের এই কর্মকাণ্ডকে ‘দূরভিসন্ধিমূলক’।
প্রসঙ্গত, প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের টানাপোড়েন চলছে। মিয়ানমারের থেকে বাস্তচ্যূত প্রায় ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চুক্তি করলেও সেটির বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হচ্ছে না।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














